মোঃ গোলাম মোস্তফা, সাতক্ষীরা জেলা ক্রাইম রিপোর্টার।
৯ মে, ২০২৬সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জে এক গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনাকে পুঁজি করে কথিত সাংবাদিক আল-আমিনের চাঁদাবাজির সংবাদে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় জনতা। শোকসন্তপ্ত পরিবারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে টাকা দাবি করার ঘটনায় ওই ভুয়া সাংবাদিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকা।
মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব ধানখালী জেলে পাড়ায় মানসিক ভারসাম্যহীন চম্পা রানীর (২৬) আত্মহত্যার পর যখন গোটা পরিবার শোকস্তব্ধ, ঠিক তখনই সেখানে হাজির হন আল-আমিন। নিজেকে 'দৈনিক দৃষ্টিপাত' পত্রিকার সাংবাদিক এবং সুন্দরবন প্রেসক্লাবের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন।
অভিযোগ উঠেছে, লাশের ময়নাতদন্ত ও মামলা সংক্রান্ত জটিলতার ভয় দেখিয়ে আল-আমিন ওই পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন।
শ্রমিক স্বামী শরোজিৎ মন্ডল এবং তার পরিবারের সদস্যরা যখন শোক সামলাতে ব্যস্ত, তখন আল-আমিন হুমকি দেন যে টাকা না দিলে লাশ নিয়ে বড় ধরনের আইনি ঝামেলা পোহাতে হবে। দীর্ঘক্ষণ ধরে চাপ সৃষ্টি করে তিনি ওই দরিদ্র পরিবারের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালান বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। শনিবার সকালে মুন্সীগঞ্জ মেইন রোডে আল-আমিনের বিরুদ্ধে একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা মিছিলে স্লোগান দেয়— "সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি চলবে না," "চাঁদাবাজ আল-আমিনের ফাঁসি চাই," "প্রশাসন ঘুমিয়ে কেন?"
মিছিলটি সুন্দরবন প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সাধারণ আমজনতা অবস্থান নিয়ে ওই চাঁদাবাজকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের ভাষ্য, আল-আমিন সাংবাদিকতার নীতিমালা তো জানেনই না, বরং এই পবিত্র পেশাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মানুষের ওপর জুলুম চালিয়ে আসছেন।
বিক্ষোভকারীরা 'দৈনিক দৃষ্টিপাত' পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন:
"এক জন অশিক্ষিত এবং নীতিহীন মানুষ কিভাবে একটি পত্রিকার কার্ড পায়? অবিলম্বে আল-আমিনের কার্ড বাতিল করতে হবে এবং তাকে বহিষ্কার করতে হবে।"
একইসাথে সুন্দরবন প্রেসক্লাবের সভাপতি বেলাল হোসেনের কাছে লিখিত ও মৌখিক দাবি জানানো হয়েছে যেন আল-আমিনকে অবিলম্বে ক্লাব থেকে বিতাড়িত করা হয় এবং তার এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
শ্যামনগরের সচেতন মহল মনে করেন, আল-আমিনের মতো মানুষের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা শুধু অপরাধ নয়, এটি চরম অমানবিকতা। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সাধারণ মানুষের আকুল আবেদন— দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে এই চাঁদাবাজকে আইনের আওতায় আনা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সাংবাদিক পরিচয়ে সাধারণ মানুষের আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সাহস না পায়।