মোঃ মেহেদী হাসান, সম্পাদক ও প্রকাশক
কথায় বলে, ‘মুখে বলা সহজ, কিন্তু বাস্তবতার আঙিনা সম্পূর্ণ ভিন্ন।’ সাম্প্রতিক সময়ে সমাজ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটা বড় অংশজুড়ে পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে নানা নেতিবাচক মন্তব্য বা ঢালাও সমালোচনা করার একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু আজ ২১ জুন, সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্স মাঠে যা ঘটল, তা সেই তথাকথিত সমালোচনাকারীদের মুখে এক চপেটাঘাত। বাংলাদেশ পুলিশের ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা হাজার হাজার যোগ্য তরুণের জনস্রোত একটি অমোঘ সত্যকে সামনে এনেছে—পুলিশ যদি আসলেই ‘খারাপ’ হতো, তবে এই সুশৃঙ্খল বাহিনীর অংশ হতে কেন রোদ-গরম উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকত?
বাস্তবতা হলো, যেকোনো বড় প্রতিষ্ঠানেই কিছু ভালো ও কিছু মন্দ মানুষ থাকে। পুলিশের বিশাল বাহিনীর দুই-একজন সদস্যের ব্যক্তিগত অপকর্মের দায় কখনো পুরো বাহিনীর ওপর বর্তায় না। মাঠের বাইরে অপেক্ষমাণ এক সচেতন অভিভাবক অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে প্রশ্ন তোলেন, “একটা শ্রেণির কাজই হলো পুলিশের সমালোচনা করা। কিন্তু গভীর রাতে যখন কোনো বিপদে পড়ি, তখন এই পুলিশকেই আগে ডাকি। পুলিশ যদি খারাপই হতো, তবে দেশের শিক্ষিত ও মেধাবী তরুণরা কেন এই চাকরি করতে এত মরিয়া হবে?”
আসলে সাধারণ মানুষের মনে পুলিশের উর্দির (ইউনিফর্ম) প্রতি, দেশের সেবা করার প্রতি এক গভীর সম্মান ও টান রয়েছে। সেই টানের কারণেই আজ সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের অভিভাবক ও নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি পুলিশ সুপার জনাব আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম মহোদয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এই নিয়োগ মাঠে চাকরিপ্রার্থীদের ঢল নেমেছিল।
নিয়োগ মাঠে উপস্থিত বিশ্লেষকদের মতে, মানুষ এখন বোঝে যে বাংলাদেশ পুলিশে নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হচ্ছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিনিধি বিশেষ পুলিশ সুপার (এসবি) জনাব মোঃ রেজাউল করিম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব সাখের হোসেন সিদ্দিকীসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কঠোর নজরদারিতে প্রতিটি প্রার্থীকে যাচাই করা হচ্ছে। কোনো প্রকার তদবির বা অনৈতিক সুযোগ সুবিধা ছাড়া, কেবল নিজের যোগ্যতায় দেশের সেবা করার এই সুযোগটিই তরুণদের এত বড় লাইনে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জনাব মিথুন সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) জনাব মোঃ আমিনুর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জনাব মোঃ শাহীনুর চৌধুরীসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় প্রথম দিনের এই যাচাইকরণ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।
সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্সের আজকের এই চিত্র প্রমাণ করে, নেতিবাচক প্রোপাগান্ডার চেয়ে দেশপ্রেম ও একটি মর্যাদাপূর্ণ ক্যারিয়ারের আকর্ষণ অনেক বেশি শক্তিশালী। তরুণদের এই উপচে পড়া ভিড় স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—জনগণের হৃদয়ে পুলিশের প্রতি আস্থা ও ভরসা আগের মতোই অটুট আছে, এবং থাকবে।