নিজস্ব প্রতিবেদক, আশাশুনি
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ৮নং খাজরা ইউনিয়নে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে। একদিকে যেমন সরকারি বরাদ্দ বিতরণে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করছেন, অন্যদিকে পূর্ববর্তী অনিয়ম ও দুর্নীতির দেয়াল ভেঙে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন মো. সাইফুল ইসলাম বাচ্চু। তবে তার এই জনমুখী সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি ১৩০ কেজি চাল ও ৬টি কম্বল নিয়ে ওঠা বিতর্কের বিষয়ে অনুসন্ধান করে জানা গেছে, বিতরণের সময় তালিকাভুক্ত ১৩ জন ব্যক্তি অনুপস্থিত থাকায় ১৩০ কেজি চাল ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষিত ছিল। বিষয়টি নিয়ে জামায়াতের ইউনিয়ন সেক্রেটারি মাওলানা আঃ রশিদ, সাবেক মেম্বার এছমাইল হোসেনসহ স্থানীয়রা গ্রাম পুলিশকে জিজ্ঞাসা করলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান স্বচ্ছতার সাথে জানান যে, কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই এই চাল রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে মঙ্গলবার ৫ জনকে চাউল প্রদান করা হয়েছে এবং অবশিষ্টদের খোঁজ করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, গত ১৮ মার্চ ১৩ জনের অনুপস্থিতির কথা লিখিতভাবে তাকে জানানো হয়েছিল। একইভাবে শীতবস্ত্র বিতরণের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের তালিকাভুক্ত ৬ জন উপস্থিত না হওয়ায় তাদের কম্বলগুলো সংরক্ষিত ছিল। কোনো অনিয়ম নয়, বরং সরকারি সম্পদ সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত ঘোষণা দিচ্ছেন যে, ভিজিডি কার্ড বা সরকারি কোনো ভাতার জন্য কোনো টাকা লাগবে না। এমনকি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ট্যাংকি বাবদ সরকারি নির্ধারিত ১৬৫০ টাকার অতিরিক্ত কাউকে এক টাকাও না দেওয়ার জন্য তিনি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াতসহ সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে জনগণের সামনে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সুবিধাভোগী বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছেন তিনি।
স্থানীয় গ্রাম পুলিশ ও সাধারণ জনগণের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাবেক চেয়ারম্যানকে মাসের পর মাস পরিষদে পাওয়া যেত না। কিন্তু সাইফুল ইসলাম বাচ্চু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নিয়মিত পরিষদে বসছেন। এমনকি ইউনিয়নের রাস্তার বেহাল দশার কথা চিন্তা করে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে সন্ধ্যার পর নিজস্ব কার্যালয়ে বসেও সেবা প্রদান করছেন তিনি।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম বাচ্চু বলেন "আমি যতদিন দায়িত্বে থাকব, কোনো অন্যায় বা দুর্নীতির সাথে আপোষ করব না। কিছু মানুষ আমার সম্মান ক্ষুণ্ণ করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে, কিন্তু আমি জনগণকে সেবা দিয়ে যাব। আমি চাই খাজরা ইউনিয়ন পরিষদ হবে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও সুন্দর মডেল ইউনিয়ন।"
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্রের ঘটনায় ইউনিয়নবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন পর তারা এমন একজন জনপ্রতিনিধি পেয়েছেন যিনি প্রতিটি কাজ জনগণের সামনে প্রকাশ করছেন। ষড়যন্ত্রকারীদের অপপ্রচার বন্ধ করে ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান স্বচ্ছ ধারা বজায় রাখতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।