শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ৫ নম্বর কৈখালী ইউনিয়নে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। এই নির্বাচনে সাধারণ মানুষের মাঝে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির অন্যতম ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা, বিশিষ্ট সমাজসেবক গাজী শাহ আলম। তবে তাঁর এই ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসা মেনে নিতে পারছে না একটি স্বার্থান্বেষী মহল। বিগত বেশ কিছুদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট পক্ষ রাজনৈতিকভাবে ফায়দা লুটতে এবং তাঁর সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে ইর্ষান্বিত হয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক সংবাদ প্রকাশ করে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে গাজী শাহ আলমের নামে সংবাদ প্রকাশ করা হলেও তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা সত্যতা মেলেনি। মূলত, আসন্ন নির্বাচনে তাঁর নিশ্চিত বিজয় ঠেকাতে এবং রাজনৈতিক ইমেজ ক্ষুণ্ণ করতেই এই পরিকল্পিত অপপ্রচার। ইতোমধ্যে এসব অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এলাকার সর্বস্তরের জনগণ। নিজের আত্মসম্মান ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি রক্ষার্থে এই অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপও গ্রহণ করেছেন এই বিএনপি নেতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজী শাহ আলম একটি ঐতিহ্যবাহী ও সুপ্রতিষ্ঠিত সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনো লোভ-লালসা নয়, বরং কৈখালী ইউনিয়নের অবহেলিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাঠে কাজ করছেন। শুধু দিনেই নয়, রাতের আঁধারেও তিনি অসহায়, দুস্থ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে খোঁজখবর নেন এবং সাধ্যমতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। বিপদে-আপদে যে কোনো মানুষ তাঁর কাছে গিয়ে কখনো শূন্য হাতে ফিরে আসেনি।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড়ে যখন কৈখালী ইউনিয়নের বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন গাজী শাহ আলম সরকারি বা অন্য কোনো অনুদানের অপেক্ষা না করে নিজস্ব তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে আর্থিক ও মানবিক সহযোগিতা পৌঁছে দেন। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। এলাকাবাসী তাঁকে ভালোবেসে 'গরিবের বন্ধু' ও 'মানবতার ফেরিওয়ালা' উপাধিতে ভূষিত করেছেন।
শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে গাজী শাহ আলম এক পরিচিত ও বিশ্বস্ত নাম। দলের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে, আন্দোলন-সংগ্রামে এবং কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নানা কর্মসূচিতে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও বলিষ্ঠ ভূমিকা নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা এই নেতা তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
কৈখালী ইউনিয়নের একাধিক সাধারণ ভোটারের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিগত দিনে বিভিন্ন সময়ে অনেকেই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন, কিন্তু এলাকার আশানুরূপ কোনো টেকসই উন্নয়ন হয়নি। সাধারণ মানুষ এখনো নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
গাজী শাহ আলম একজন ধনাঢ্য ও সৎ পরিবারের সন্তান। তাঁর নিজের কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। তিনি একজন প্রকৃত দানবীর ও ভালো মানুষ। তাঁকে যদি আমরা কৈখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে পাই, তবে এলাকার রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও সামাজিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে এবং প্রকৃত উন্নয়ন সাধিত হবে।"
এসব অপপ্রচার ও নিজের অবস্থান নিয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা গাজী শাহ আলম বলেন,
"একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার সমাজসেবা ও রাজনৈতিক মাঠের শক্ত অবস্থান দেখে ভয় পেয়ে একের পর এক মিথ্যা ও বানোয়াট অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কাদা ছুড়ে আমার সততা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসাকে ঢাকা যাবে না। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইনিভাবেই এর মোকাবেলা করছি।"
তিনি আরও দৃঢ়তার সাথে বলেন,
"পদ-পদবি বড় কথা নয়, আমি মানুষের সেবা করতে ভালোবাসি। মহান আল্লাহ আমাকে যতদিন বাঁচিয়ে রাখবেন, ততদিন আমি এই অসহায়, গরিব ও মেহনতি মানুষের পাশে এভাবেই দাঁড়িয়ে যাবো। কৈখালীবাসী অতীতেও আমার সাথে ছিল, বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।"
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অপপ্রচার যতই বাড়ছে, গাজী শাহ আলমের প্রতি সাধারণ মানুষের সহমর্মিতা ও সমর্থন ততই দ্বিগুণ হচ্ছে। কৈখালী ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ব্যালটের মাধ্যমে এই ষড়যন্ত্রের উপযুক্ত জবাব দিয়ে তাদের প্রিয় নেতাকে ইউনিয়নের অভিভাবক হিসেবে নির্বাচিত করতে।