খালেদা খাতুন, স্টাফ রিপোর্টার
সাতক্ষীরার আটুলিয়া ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) আশরাফুজ্জামান-এর বিরুদ্ধে সম্প্রতি প্রকাশিত সংবাদগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং একটি কুচক্রী মহলের সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে প্রমাণিত হয়েছে। সাংবাদিকদের গভীর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, নির্দিষ্ট একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের অনৈতিক সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে সাংবাদিকদের ভুল ও বানোয়াট তথ্য সরবরাহ করে এই বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।
সম্প্রতি প্রায় এক ডজন পত্রিকায় নায়েব আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কাল্পনিক অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পত্রিকাগুলোর সাংবাদিকরা একযোগে একটি গভীর অনুসন্ধান চালান। অনুসন্ধানে দেখা যায়, মূলত ওই ভূমি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ইমেজ নষ্ট করার লক্ষ্যেই একটি 'ভূমি দস্যু ও দালালচক্র' সাংবাদিকদের সুকৌশলে ভুল তথ্য দিয়ে ব্যবহার করেছে।
বানোয়াট তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ পরিবেশনকারী পত্রিকাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল— দূরন্ত ক্রাইম নিউজ, দৈনিক সাতক্ষীরা কণ্ঠ, দৈনিক সাতক্ষীরা তথ্য, দৈনিক আমাদের পত্রিকা, দৈনিক খবর বাংলাদেশ, বর্তমান সাতক্ষীরা, দৈনিক যশোর বার্তা, সাতক্ষীরা অবজারভার, দৈনিক আমাদের বসুন্ধরা, দৈনিক সময় বার্তা, দৈনিক অভয়নগর, দৈনিক সুপ্রভাত এবং দৈনিক সাতনদী। বর্তমানে এই পত্রিকাগুলোর সাংবাদিকরা সত্য অনুসন্ধানের পর নিশ্চিত হয়েছেন যে, তারা একটি কুচক্রী মহলের সাজানো ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন।
তদন্তে দেখা গেছে, নায়েব আশরাফুজ্জামানের রাজ হোটেলের পাশের ভবন বা আমতলা মোড়ের বাড়িসহ সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত এবং সম্পূর্ণ বৈধভাবে অর্জিত। ভূমি দস্যুতা ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে তিনি কঠোর অবস্থান নেওয়ায় ওই মহলটি ক্ষিপ্ত হয়ে এই অপপ্রচার চালায়। এমনকি যে ব্যক্তিকে (বাসার মেম্বার) অভিযোগকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তিনি নিজেও বর্তমানে স্বীকার করেছেন যে তিনি একটি মহলের দ্বারা প্ররোচিত হয়েছিলেন এবং ভুল বুঝতে পেরেছেন।
এই ন্যাক্কারজনক অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে নায়েব আশরাফুজ্জামান বলেন,
"আমি সরকারের একজন সৎ কর্মচারী হিসেবে স্বচ্ছতার সাথে সেবা দিয়ে আসছি। বর্তমানে ভূমি অফিস সম্পূর্ণ ক্যাশলেস; এখানে কোনো নগদ অর্থ লেনদেনের সুযোগ নেই। আমি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সততার সহিত দায়িত্ব পালন করছি। সাংবাদিকদের দিয়ে যারা আমার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা তথ্য ছড়াতে বাধ্য করেছে, সেই ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আমি অতি শীঘ্রই মানহানি মামলাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।"
সচেতন মহলের মতে, একজন দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তার সুনাম ক্ষুণ্ণ করার এই অপচেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয়। সত্য উদঘাটিত হওয়ায় এলাকাবাসী এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা এখন প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।