মোঃ মেহেদী হাসান, সম্পাদক ও প্রকাশক
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে দেশব্যাপী চালু হওয়া ‘স্কুল ফিডিং কর্মসূচি’ এখন অসাধু সিন্ডিকেটের কবলে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে এই কর্মসূচির আওতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘সুশীলন’ কর্তৃক সরবরাহকৃত বনরুটিতে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি বনরুটির ওজন ১২০ গ্রাম হওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে পলিথিনসহ মেপেও তা ওজনে অনেক কম পাওয়া যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, সরবরাহকৃত এই রুটিগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের এবং দুর্গন্ধযুক্ত, যা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।
সরেজমিনে কৈখালী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এই জালিয়াতির সত্যতা পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়গুলোতে শিশুদের মাঝে যে বনরুটি বিতরণ করা হচ্ছে, তা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
"শুরুর দিকে রুটির মান কিছুটা ভালো থাকলেও, বর্তমানে অত্যন্ত নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে। রুটিগুলো এতটাই দুর্গন্ধযুক্ত যে বাচ্চারা মুখে তুলতে পারছে না, অনেকেই ফেলে দিচ্ছে। এই মেয়াদোত্তীর্ণ ও মানহীন খাবার খেয়ে যদি শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে, তবে তার দায় কে নেবে?"
অভিভাবকদের অভিযোগ, শিশুদের পুষ্টির নামে প্রকারান্তরে তাদের বিষ খাওয়ানো হচ্ছে। সরকারি অর্থ নয়ছয় করে একটি প্রভাবশালী চক্র প্রতিনিয়ত এই ভেজাল খাদ্য সরবরাহ করে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার ‘স্কুল ফিডিং কর্মসূচি’র আওতায় প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। তবে এটিই প্রথম নয়; এর আগেও দেশের বিভিন্ন উপজেলায় শিশুদের দেওয়া বনরুটি, ডিম ও কলা নিম্নমানের, ওজনে কম, বাসি এবং ফাঙ্গাসযুক্ত হওয়ার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। দেশের বেশ কিছু এলাকায় এই মানহীন ও ভেজাল খাবার খেয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার নজিরও রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত অসাধু ঠিকাদার ও তদারকি প্রতিষ্ঠানের সিন্ডিকেটের কারণেই ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের এই জনমুখী উদ্যোগ।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং সরকারি অর্থের অপচয় রোধে শ্যামনগরের এই পুষ্টি কর্মসূচির ওপর কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। অতি দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘সুশীলন’ এবং এর পেছনে থাকা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।