মোঃ হাফিজুর রহমান হাফিজ, সাতক্ষীরা জেলা ক্রাইম রিপোর্টার।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নে দলীয় পদ হারিয়েও থামছেন না কথিত যুবদল নেতা হাবিবুল্লাহ। জমি দখলের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার পরও তার নেতৃত্বে একের পর এক নিরীহ মানুষের জমি ও ঘরবাড়ি দখলের অভিযোগ উঠছে। সর্বশেষ পশ্চিম বিড়ালক্ষী গ্রামের এক অসহায় বিধবা বৃদ্ধার ১০ বছরের বসতভিটা জবরদখল করে পরিবারসহ তাকে রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী মোছাঃ রনজিনা খাতুন (৫২) জানান, পশ্চিম বিড়ালক্ষী মৌজায় সরকারের কাছ থেকে ৯৯ বছরের বন্দোবস্ত পাওয়া ২১ শতক জমিতে তিনি গত ১০ বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন। সেখানে বাড়িঘর নির্মাণ ও গাছপালা লাগিয়ে তিনি তার মেয়ে মিনারা খাতুন ও দুই নাতিকে নিয়ে দিনমজুর খেটে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করতেন।
অভিযোগ মতে, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ দুপুর অনুমান ২টার সময় আটুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুল্লাহ (৩৬) তার সহযোগী খোকন (৫০), ইদ্রিস (৩৫) এবং আরও ৯-১০ জন সশস্ত্র ব্যক্তিকে নিয়ে রনজিনা খাতুনের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা বৃদ্ধা ও তার নাতিদের টেনে-হিঁচড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয় এবং প্রধান ফটকসহ ঘরের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেয়।
নিঃস্ব রনজিনা খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, "আমার স্বামী নেই, মেয়েরও স্বামী নেই। ছোট বাচ্চা দুটো নিয়ে দিনমজুরি করে ঐ ঘরে থাকতাম। হাবিবুল্লাহর পেটুয়া বাহিনীর ভয়ে আমরা প্রতিবাদ করতে পারিনি। এখন আমরা ঘরবাড়ি ছাড়া হয়ে পথে পথে ঘুরছি। প্রতিবাদ করলে তারা আমাদের মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।"
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাবিবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও অসংখ্য জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। এসব অপকর্মের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। কিন্তু বহিষ্কারের পরেও তার ব্যক্তিগত 'পেটুয়া বাহিনী'র দাপটে সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে আছে। তার বিরুদ্ধে মুখ খুললেই সাধারণ মানুষকে শারীরিক লাঞ্ছনা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় রনজিনা খাতুন বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার সাক্ষী হিসেবে স্থানীয় সুজন হোসেন ও বুলবুলি খাতুনসহ অনেকেই জবরদখলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নিয়েছেন এই সহায়-সম্বলহীন পরিবারটি।
এই বিষয়ে শ্যামনগর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আটুলিয়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের দাবি, এই ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটের হাত থেকে এলাকাকে মুক্ত করতে এবং অসহায় বৃদ্ধার বসতভিটা ফিরিয়ে দিতে প্রশাসন যেন অনতিবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।