নিজস্ব প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর এলাকায় পানিতে ডুবে আব্দুর রহমান নামের দুই বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার (১৬ মে) আনুমানিক সকাল ১০টার দিকে উপজেলার নূরনগর ছোট শ্যামনগর গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।
নিহত আব্দুর রহমান ওই গ্রামের আক্তার হোসেন (আতা গাজী)-এর নাতি এবং আমির হোসেনের একমাত্র সন্তান। নিষ্পাপ এই শিশুর এমন অকাল ও আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টার দিকে শিশু আব্দুর রহমানকে ঘরের আঙিনায় খেলতে দেখে পরিবারের সদস্যরা গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এর কিছুক্ষণ পর তাকে উঠানে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি জলাশয়ে শিশুটিকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
তাত্ক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ধারণা, সবার অলক্ষ্যে হামাগুড়ি দিয়ে বা খেলার ছলে শিশুটি জলাশয়ের গভীরে পড়ে যায় এবং সাঁতার না জানার কারণে দম আটকে তার মৃত্যু হয়।
"মাত্র দুই বছরের এই নিষ্পাপ শিশুটি এখনও ঠিকভাবে কথা বলতে বা হাঁটতেও শেখেনি। ঘরের আঙিনায় যে ছোট্ট শিশুর হাসি আর পায়ের ছাপে মুখরিত থাকার কথা ছিল, আজ সেখানে কেবলই নিস্তব্ধতা। এই অকাল বিদায়ের কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।"
— কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন এক প্রতিবেশী
খবরটি ছড়িয়ে পড়লে নূরনগর ছোট শ্যামনগর গ্রামে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সন্তানকে হারিয়ে বাবা আমির হোসেন ও মা মূহ্যমান হয়ে পড়েছেন। স্বজনদের আহাজারি আর বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের বাতাস। প্রতিবেশীরাও এই অবুঝ শিশুর চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।
এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার মরহুম শিশু আব্দুর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আল্লাহর দরবারে দোয়া চেয়েছেন, যেন আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি ও শোক সহ্য করার ধৈর্য (সবর) দান করেন।
আজ বাদ আসর স্থানীয় কবরস্থানে শিশুটির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।