বিশেষ প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য, জালিয়াতি এবং সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের চরম হয়রানির অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) গগন চন্দ্র মন্ডলের বিরুদ্ধে। শ্যামনগর উপজেলা সদরের ভূমি অফিসের ঝাড়ুদার জিতেনের সঙ্গে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে দীর্ঘদিন ধরে নামজারি (খারিজ), সরকারি খাল ও খাস জমি ইজারাসহ নানা কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এই কর্মকর্তা।
স্থানীয় সূত্রের খবর, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কথিত দালাল ও ঝাড়ুদার জিতেনকে ছাড়া সরাসরি কোনো কাজ করার উপায় নেই। কোনো সেবাগ্রহীতা সরাসরি ভূমি সহকারী কর্মকর্তার কাছে গেলে ফাইল ঝুলিয়ে রেখে বছরের পর বছর হয়রানি করা হয়। কিন্তু জিতেনের মাধ্যমে চুক্তি অনুযায়ী মোটা অঙ্কের ঘুষ দিলে মুহূর্তেই মিলে যায় প্রশাসনিক সুবিধা। শ্যামনগর উপজেলাতেই এতদিন ধরে কর্মরত থাকার সুযোগে গড়ে তোলা এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের আর্থিক বিনিময়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার অগণিত অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরি করেও ঝাড়ুদার জিতেন ও নায়েব গগন চন্দ্র মন্ডল রাতারাতি বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। স্থানীয়দের তথ্যমতে, গগন চন্দ্র মন্ডলের মূল বাড়ি কালিগঞ্জ উপজেলার তারালি ইউনিয়নে হলেও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে উপার্জিত অবৈধ টাকায় তিনি ইতোমধ্যে সাতক্ষীরা শহরে জমি কিনে বিলাসবহুল বাড়ি তৈরি করেছেন। অন্যদিকে, সাধারণ একজন অফিস ঝাড়ুদার হয়েও জিতেনের কোটিপতি বনে যাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে এই নায়েবের ঘুষের টাকার লেনদেন পরিচালনা করা।
ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বললে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান, "দিনের পর দিন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার কারবার চলছে। জিতেন সরাসরি অফিসে বসে লেনদেন পরিচালনা করে। জিতেনের হাত না ধরলে কোনো ফাইলের কপাল খোলে না। টাকা নিয়েও মাসের পর মাস কাজ না ঝুলিয়ে রাখা যেন ওদের নিয়মে পরিণত হয়েছে।"
উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) গগন চন্দ্র মন্ডলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। ঘুষ ও দালাল নির্ভরতার বিষয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এক পর্যায়ে তিনি বলেন, "আমরা সবাই কম-বেশি অপরাধ করি।" সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে বিষয়টি 'আপস' করার প্রস্তাবও দেন তিনি। তবে সাংবাদিকরা তাতে রাজি না হওয়ায় তিনি নানা বিভ্রান্তিকর ও অসৌজন্যমূলক মন্তব্য করেন।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (সহকারী কমিশনার - ভূমি)-এর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি এবং তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই দুর্নীতি ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ ফুঁসে উঠছে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে। ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ দ্রুত তদন্তপূর্বক নায়েব গগন চন্দ্র মন্ডল ও ঝাড়ুদার জিতেনের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও আকস্মিক পরিদর্শনের তীব্র দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মেহেদী হাসান,মোবাইল-০১৭৪৫-০৫৪৯৯৮
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত