নিজস্ব প্রতিবেদক, শ্যামনগর
সারা দেশে চলমান জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলা ও সুশৃঙ্খল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিশেষ রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে উপজেলা প্রশাসন। এখন থেকে নির্দিষ্ট ইউনিয়নের বাসিন্দাদের জন্য নির্ধারিত পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করতে হবে।
সম্প্রতি শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক জরুরি সভায় পাম্প মালিক, সাংবাদিক ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
![]()
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নকে চারটি প্রধান পাম্পের আওতায় ভাগ করা হয়েছে
ডেলমা পেট্রোল পাম্প (মুন্সীগঞ্জ)এই পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করবেন মুন্সীগঞ্জ, গাবুরা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের গ্রাহকরা।
আশা পেট্রোল পাম্প এই পাম্পের আওতায় থাকবেন কৈখালী, রমজাননগর ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
লস্কর পেট্রোল পাম্প আটুলিয়া, কাশিমাড়ি ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নের জন্য এই পাম্পটি নির্ধারিত করা হয়েছে।
শ্যামনগর ফিলিং স্টেশন (সদর) নূরনগর, ভুরুলিয়া ও শ্যামনগর পৌরসভার বাসিন্দারা এখান থেকে জ্বালানি নিতে পারবেন।
প্রশাসনের এই উদ্যোগকে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা হিসেবে দেখা হলেও মাঠ পর্যায়ে গ্রাহকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ভ্রাম্যমাণ সাধারণ মানুষ ও কর্মজীবী শ্রেণির মাঝে উদ্বেগ বেড়েছে।
ভুক্তভোগীদের মতে, জরুরি প্রয়োজনে এক এলাকার মানুষ অন্য এলাকায় যাতায়াতের সময় জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে বিড়ম্বনায় পড়ছেন। উদাহরণস্বরূপ, কালিগঞ্জ থেকে ভেটখালি যাওয়ার পথে কোনো চালকের তেল ফুরিয়ে গেলে তিনি নিকটস্থ খানপুর পাম্প থেকে তেল নিতে পারবেন কি না—তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এছাড়া যারা স্থায়ী ঠিকানার বাইরে ভাড়া বাসায় বা কর্মস্থলে থাকেন, তাদের তেল সংগ্রহ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে পরিবহন নেতা শেখ রবিউল ইসলাম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জনমনে স্বস্তি ফেরানোর চেষ্টা করেছেন। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে তিনি জানান
"আগামী ১৫ এপ্রিলের পর থেকে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি থাকবে না। তখন চাহিদা অনুযায়ী যে কেউ যেকোনো পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করতে পারবেন।"
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে পেট্রোল, ডিজেল বা অকটেনের দাম বৃদ্ধির কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে গণপরিবহন বা পণ্যবাহী যানের ভাড়াও বাড়বে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাময়িক এই সংকটকালীন শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই তুলে নেওয়া হবে।