নিজস্ব প্রতিবেদক,
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ ‘জেলি পুশ’ করা চিংড়ি বিক্রির দায়ে এক মাছ ব্যবসায়ীকে বড় অংকের অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার বিকেলে উপজেলার নূরনগর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নূরনগর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় ওই গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে ও মাছ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেনকে জেলি পুশ করা অবস্থায় হাতেনাতে ধরা হয়। ওজনে কারচুপি ও অসদুপায়ে মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে তিনি চিংড়ি মাছে ক্ষতিকর জেলি ঢুকিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভোক্তা অধিকার ও মৎস্য আইনে জাহাঙ্গীর হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সাথে জব্দকৃত ৮০ কেজি বিষাক্ত চিংড়ি জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
অভিযান চলাকালে উপস্থিত শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ খালেদুর রহমান হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন
"চিংড়ি মাছে জেলি পুশ করা কেবল একটি অপরাধই নয়, এটি চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি। যারা অবৈধভাবে মাছে জেলি পুশ করবে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সুনির্দিষ্ট জরিমানার পাশাপাশি অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর কারাদণ্ডের বিধান কার্যকর করা হবে।"
উল্লেখ্য যে, মোঃ খালেদুর রহমান শ্যামনগর থানায় যোগদানের পর থেকেই মাদক এবং চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। তার নেতৃত্বে থানা এলাকায় নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান ও চোরাচালান রোধে কঠোর নজরদারি চলছে। আজকের এই মৎস্য অভিযান তারই ধারাবাহিকতায় জননিরাপত্তা ও খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি অংশ।
স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং এই ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি তুলেছেন।