শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা অবস্থায় বিএনপির যুবদল নেতা আব্দুল মান্নানকে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরবর্তীতে জানা যায়, দলীয় নীতিগত ভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে তাঁর ওপর পূর্ব থেকেই বহিষ্কারাদেশ বহাল ছিল এবং তা প্রত্যাহার করা হয়নি। বহিষ্কারাদেশ বহাল থাকার পরও বিএনপির যুবদল নেতা পরিচয়ে অননুমোদিতভাবে প্রভাব বিস্তার এবং কোনো আইনি পদক্ষেপ ছাড়াই ঘটনাটি অর্থ ও ক্ষমতার জোরে স্থানীয়ভাবে রফা হয়ে যাওয়ায় এলাকায় তীব্র বিতর্ক ও জনক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আব্দুল মান্নান। তিনি শ্যামনগর সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুবদল নেতা হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে পাওয়া তথ্যমতে, চন্ডিপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে বিএনপির যুবদল নেতা আব্দুল মান্নানের সঙ্গে হরিনগর গ্রামের এনজিও কর্মী চম্পা মল্লিকের দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া সম্পর্ক চলছিল। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর খোরপোষের মামলার আইনি লড়াইয়ের মাঝেই বিবাহিত ও পরিবার থাকা সত্ত্বেও বিএনপির যুবদল নেতা মান্নানের সঙ্গে এই সম্পর্কের বিস্তার ঘটে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সদর এলাকা থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে হরিনগরে অসামাজিক ও অন্তরঙ্গ অবস্থায় স্থানীয় জনতার হাতে হাতেনাতে ধরা পড়েন বিএনপির যুবদল নেতা মান্নান। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা তাঁদের আটক করে রাখে।
ঘটনার পর থেকে বিএনপি থেকে এই যুবদল নেতার বহিস্কারাদেশ এখনো বহাল থাকার পরও কার শক্তিতে, কোন ক্ষমতার জোরে এবং কীভাবে স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টিকে রফা-মীমাংসা করে তাঁকে মুক্ত করে নেওয়া হলো—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বহিষ্কারের পর কোনো দলীয় পদ-পদবি না থাকলেও বিএনপির যুবদল নেতা পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব খাটানো এবং অপরাধ ধামাচাপা দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন জনগণ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনার নানা চিত্র ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লেও বিএনপির যুবদল নেতা মান্নানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি পদক্ষেপ না হওয়ায় স্থানীয় জনতা ও সাংবাদিক মহল চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। স্থানীয়দের মতে, এমন চরিত্রহীন ব্যক্তি বিএনপির যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে অপকর্ম করে পার পেয়ে গেলে সমাজে চরম ভুল বার্তা যায় এবং সাধারণ মানুষের ভরসা উঠে যায়।
এ বিষয়ে প্রশাসনিক কোনো সুষ্ঠু সুরাহা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুত সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার এবং খুলনা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত বিএনপির যুবদল নেতা আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও তাঁকে বেআইনিভাবে পার পাইয়ে দেওয়ার নেপথ্যে থাকা চক্রটির সঠিক তদন্ত দাবি করেছে শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজ।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মেহেদী হাসান,মোবাইল-০১৭৪৫-০৫৪৯৯৮
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত