নিজস্ব প্রতিবেদক,
দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত (ডিএসডি টিভি)-এর নাম ও লোগো ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে শ্যামনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পত্রিকাটির সম্পাদক মেহেদী হাসান গত ১৯ মার্চ এই জিডি করেন (জিডি নং- ১০০৬)। জিডি করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশি প্রযুক্তির সহায়তায় এই চক্রের মূল হোতা ও ব্যবহৃত সিম কার্ডের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে ০১৬০৮৪৮২৯৭৪ নম্বরটি ব্যবহার করে এক ব্যক্তি নিজেকে পত্রিকাটির প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে শ্যামনগর রিডা প্রাইভেট হাসপাতালের এমডি আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। দাবি পূরণ না হওয়ায় হোয়াটসঅ্যাপে পত্রিকার লোগো ব্যবহার করে ভুয়া চ্যাট তৈরি করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
সম্পাদক মেহেদী হাসান জানান, রিডা হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে ফাঁসাতে এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, চাঁদাবাজিতে ব্যবহৃত সিম কার্ডটির প্রকৃত মালিক তালা উপজেলার খলিশখালী ইউনিয়নের কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের মনোয়ারা বেগম। তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সিমটি ব্যবহার করছিলেন তার ছেলে আল-আমিন (পিতা-তুব্বাত সরদার)।
স্থানীয় সূত্র ও তদন্তে আল-আমিনের বিরুদ্ধে বহু চাঞ্চল্যকর অভিযোগ মিলেছে:
বহিষ্কৃত সাংবাদিক, অভিযুক্ত আল-আমিন একসময় 'দৈনিক যশোর বার্তা'য় যুক্ত থাকলেও চাঁদাবাজি ও নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্পাদক শিহাব উদ্দিন তাকে অনেক আগেই বহিষ্কার করেন।
ভুয়া আইডি ও ব্ল্যাকমেইল,সে 'দৈনিক সোনার বাংলাদেশ' নামক একটি ফেক ফেসবুক পেজ ও পোর্টাল খুলে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসে ফোন দিয়ে টাকা দাবি ও ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল।
অপরাধের রেকর্ড,তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, ছাগল চুরি এবং ব্যবসায়ীদের ব্ল্যাকমেইল করার একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি স্থানীয় যুবদল নেতার নামে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের দায়েও সে মামলার আসামি।
প্রতারণার কৌশল, আল-আমিন নির্দিষ্ট কোনো স্থানে স্থায়ীভাবে থাকে না। বিভিন্ন এলাকায় ২-৬ মাস ঘর ভাড়া থেকে চাঁদাবাজি করে সটকে পড়ে। পাটকেলঘাটায় ব্যবসায়ী শাহীনকে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্তের সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন
"আমরা ন্যায় ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী। একটি কুচক্রী মহল আমাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে লোগো ব্যবহার করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় মূল হোতাকে শনাক্ত করেছি। যারা ফেসবুক ব্যবহার করে হুমকি দিচ্ছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।"
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই অভিক বড়াল জানান, সিম কার্ডের মালিক ও ব্যবহারকারীর বিস্তারিত তথ্য পুলিশের হাতে এসেছে। এই চক্রের সাথে জড়িত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।