নজরুল ইসলাম খোকন,টেকনাফ, কক্সবাজার :
২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দমন-পীড়নের মুখে শুরু হওয়া রোহিঙ্গাদের গণপালায়ন নয় বছর পরও থামেনি। সহিংসতা, সংঘাত ও প্রাণনাশের আশঙ্কায় এখনো সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছেন মিয়ানমারের নাগরিকরা। গত প্রায় দেড় বছরেই নতুন করে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, যা সংকটের দীর্ঘস্থায়িত্ব ও গভীরতাকেই নতুন করে সামনে এনেছে।
বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি)। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহায়তা উদ্বেগজনক হারে কমে যাচ্ছে। সংকটের শুরুর বছরগুলোতে বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন এলেও চলতি বছরে প্রতিশ্রুত সহায়তা নেমে এসেছে মাত্র ৭১০ মিলিয়ন ডলারে, যা গত বছরের তুলনায় অন্তত ২৬ শতাংশ কম।
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থায়ন কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর মানবিক পরিস্থিতির ওপর। খাদ্য সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও জীবিকা কর্মসূচি—সব ক্ষেত্রেই দেখা দিচ্ছে অনিশ্চয়তা।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর)-এর বাংলাদেশের যোগাযোগ কর্মকর্তা শারি নিজমান বলেন, ২০১৭ সালে যে ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল, আজও অনেকেই একই ধরনের নির্যাতন ও সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছেন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ এখনো মিয়ানমারে তৈরি হয়নি। ফলে অদূর ভবিষ্যতে রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরার সম্ভাবনাও খুবই ক্ষীণ। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটে লাখো রোহিঙ্গার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে আছে। তাই শুধু মানবিক সহায়তা নয়, সংকটের একটি কার্যকর ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করাও এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য জরুরি হয়ে উঠেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মেহেদী হাসান,মোবাইল-০১৭৪৫-০৫৪৯৯৮
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত