মোঃ মোকাররাম বিল্লাহ ইমন সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলা, নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং বেতনা ও মরিচ্চাপ অববাহিকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) জোয়ারাধার পদ্ধতি বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পানি কমিটির ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভা থেকে ‘যুব চেতনায় উপকূলীয় জলাবদ্ধতা সমস্যা মোকাবেলায় টিআরএম’ শীর্ষক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
রবিবার (১৪ জুন) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরীতে "সাস্টেইনেবল রিভার বেসিন ম্যানেজমেন্ট (এসআরএম): অ্যাডাপ্টিং ক্লাইমেট চেঞ্জ ইন দ্য সাউথওয়েস্ট বাংলাদেশ" প্রকল্পের আওতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘উত্তরণ’ ও ‘সদর উপজেলা পানি কমিটি’ যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি মো. মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর আব্দুল হামিদ। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো: শফিকুল ইসলাম। এসময় বই উন্মোচনে অংশ নেন সাতক্ষীরা যুব পানি কমিটির সভাপতি মো. হোসেন আলী, সহসভাপতি হাফিজা আফরোজ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিমন নেছা শান্তা।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা পানি কমিটির সহসভাপতি আমিরুল ইসলাম, তালা উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর জিল্লুর রহমান, সদর উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রউফ বাবু, দপ্তর সম্পাদক মহুয়া মঞ্জুয়ারা, সদস্য আব্দুল জব্বার মাস্টার, উত্তরণের প্রজেক্ট অফিসার দিলীপ কুমার সাহা, মনিটরিং অফিসার আল-আমীন মোল্যা, ফিল্ড অফিসার গোলাম হোসেন এবং যুব পানি কমিটির প্রচার সম্পাদক মো. মোকাররাম বিল্লাহ ইমনসহ পানি কমিটি ও যুব পানি কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
বইটির বিষয়বস্তু ও গুরুত্ব সম্পর্কে সভায় জানানো হয়, ‘যুব চেতনায় উপকূলীয় জলাবদ্ধতা সমস্যা মোকাবেলায় টিআরএম’ বইটিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের সংকট এবং তা নিরসনে সনাতনী পদ্ধতির ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে, পলি জমে মৃতপ্রায় নদীগুলোকে বাঁচাতে টিআরএম বা জোয়ারাধার পদ্ধতির বৈজ্ঞানিক ও স্থানীয় কার্যকারিতা এবং এই আন্দোলনকে সফল করতে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা ও করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই প্রকাশনাটি উপকূলের নদী রক্ষা আন্দোলনে যুবসমাজকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে উদ্বুদ্ধ করবে।
সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৯০-এর দশক থেকে সাতক্ষীরা জেলার বেতনা, মরিচ্চাপ ও প্রাণসায়ের অববাহিকায় জলাবদ্ধতা সমস্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। দিন দিন এ সমস্যা আরও প্রকট হচ্ছে এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব সুন্দরবন পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে। পলি জমে বেতনা, মরিচ্চাপ, প্রাণসায়ের, লাবণ্যবতী ও সাপমারা নদী এখন মৃতপ্রায়। ফলে বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে মানুষ ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারাচ্ছে, বিপন্ন হচ্ছে এলাকার জীববৈচিত্র্য।
বক্তারা আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন সময়ে নদী খনন, খাল খনন ও স্লুইসগেট সংস্কারের মতো সনাতনী পদ্ধতি প্রয়োগ করা হলেও তা কোনো কাজে আসেনি। সংকটের মূল কারণ নদীতে অতিরিক্ত পলি জমা, যা টিআরএম (জোয়ারাধার) পদ্ধতি বাস্তবায়ন ছাড়া দূর করা অসম্ভব। উপকূলীয় অঞ্চলের যুবসমাজকে সাথে নিয়ে নদী রক্ষায় অবিলম্বে টিআরএম কার্যকর করার জন্য তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।