শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সুন্দরবনে মাছ ধরা, কাঁকড়া আহরণ ও বনজ সম্পদ সংগ্রহে সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকলেও বাস্তবে প্রতিদিন শত শত মানুষ বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বনে প্রবেশ করছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট বন টহলফাঁড়িতে মাসোয়ারা বা অবৈধ অর্থের বিনিময়ে অনেককে বনে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। অথচ যারা কোনো ধরনের অর্থ প্রদান না করে বনে প্রবেশ করেন, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আটক ও মামলা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য যদি বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ হয়, তাহলে অর্থের বিনিময়ে কাউকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। তারা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী একটি চক্রের মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ বনে প্রবেশ করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করছে। ফলে প্রকৃত বননির্ভর দরিদ্র মানুষেরাই বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
বননির্ভর কয়েকজন শ্রমজীবী জানান, জীবিকার তাগিদে অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে বনে যেতে বাধ্য হন। তাদের অভিযোগ, অর্থ দিতে না পারলেই অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়, কিন্তু অর্থের বিনিময়ে অনেকেই নির্বিঘ্নে বনে যাতায়াত করছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মেহেদী হাসান,মোবাইল-০১৭৪৫-০৫৪৯৯৮
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত