আবু রায়হান, মণিরামপুর (যশোর):
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার অন্যতম ব্যস্ত ও ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্য কেন্দ্র রাজগঞ্জ বাজার। এই বাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও কাঁচাবাজার কেনাকাটা করতে আসেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এই বাজারের মাংস পট্টিতে প্রতিদিনের খাবারের মাংস বিক্রির স্থানে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে, যা এখন স্থানীয় জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে রাজগঞ্জ বাজারের মাংসের দোকানে গিয়ে দেখা যায় এক ভয়াবহ চিত্র। যে টেবিল ও কাঠের ওপর প্রতিদিন মাংস কাটা ও সাজিয়ে রাখা হয়, ক্রেতাদের অনুপস্থিতিতে সেই টেবিল এবং মাংস কাটার কাঠের ওপরই নিশ্চিন্তে অবস্থান করছে বেওয়ারিশ কুকুর। মাংসের অবশিষ্টাংশ বা রক্ত মাখা কাঠে কুকুর মুখ দিচ্ছে এবং ঘুমিয়ে থাকছে। পরবর্তীতে এই একই নোংরা ও জীবাণুযুক্ত স্থানেই আবার নতুন করে মাংস কেটে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মাংসের দোকানগুলোতে কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী বা নেট না থাকায় খুব সহজেই কুকুর দোকানে ঢুকে পড়ছে। মাংস বিক্রেতারা নিজেরা উপস্থিত না থাকলে বা একটু আড়ালে গেলেই টেবিলগুলো কুকুরের দখলে চলে যায়।
এটি শুধু অস্বাস্থ্যকরই নয়, বরং মারাত্মক জীবাণু ও জলাতঙ্কের মতো সংক্রামক ব্যাধি ছড়ানোর বড় মাধ্যম হতে পারে।
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার, সেখানে রাজগঞ্জ বাজারের এই চিত্র কোনোভাবেই কাম্য নয়।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মাংস বিক্রেতা, বাজার বণিক সমিতি এবং সচেতন মহলের এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
বাজারের মাংসের দোকানগুলোকে অবিলম্বে জালের বেড়া বা নেটের আওতায় আনা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।স্থানীয় মাংস বিক্রেতাদের এই চরম উদাসীনতা বন্ধে মনিরামপুর উপজেলা প্রশাসনের অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা জরুরি।পরিচ্ছন্ন বাজার, নিরাপদ খাদ্য সবার দায়িত্ব,এই স্লোগানকে সামনে রেখে রাজগঞ্জ বাজারের পরিবেশ দ্রুত ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় সাধারণ জনগণ।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মেহেদী হাসান,মোবাইল-০১৭৪৫-০৫৪৯৯৮
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত