শাহিনুর ইসলাম,বিশেষ প্রতিনিধি
ব্রিজ নির্মাণ শেষ হয়েছে ৩ বছর আগে। কিন্তু গত ৩ বছরেও সেই ব্রিজে ওঠা-চলাচলের রাস্তাই তৈরি হয়নি। কারণ সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহনে জটিলতা শেষই হচ্ছে না। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ২টি ব্রিজ’র একই অবস্থা।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের বাদুরগাছা ও কুলটি গ্রামের মানুষের চলাচল নির্বিঘ্নে করতে মরা-নদীর ওপর ৪ কোটি ৬৪ লাখ ২৫ হাজার ৯২৮ টাকা ব্যয়ে ৬৫ মিটার লম্বা কুলটি ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এবং ৩ বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষও হয়েছে। তবে শুরু থেকেই ব্রিজটির সংযোগ সড়কের জমি ব্যক্তি-মালিকানার দাবি সামনে চলে আসে। কিন্তু সেই ঝামেলা বিগত ৮ বছরেও সমাধান না হওয়ায় এলাকার মানুষ ব্রিজের সুবিধার পরিবর্তে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে।
অপরদিকে, ওই একই সময়ে উপজেলার সাহস ও শরাফপুর ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ আরও সুগম করতে মরা-ভদ্রানদীর ওপর ৪ কোটি ৮৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮২৪ টাকা ব্যয়ে ৮৪ মিটার লম্বা গজেন্দ্রপুর ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ৩ বছর আগে সেই ব্রিজের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। এখানেও সেই জমি অধিগ্রহন সমস্যায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি।
এ ছাড়াও ২০২৪ সালের শুরুতেই উপজেলার শরাফপুর-গাওঘরা নদীতে ১১৯ কোটি টাকা ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭৫০ মিটার লম্বা ও শোভনা ইউনিয়নের কদমতলা-মাদারতলা নদীতে ৬৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৬১ মিটার লম্বা নির্মাণাধীন বড় ব্রিজ ২টি-তেও সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহন নিয়ে জটিলতা চলছে।
এ প্রসঙ্গে কুলটি ব্রিজের সংযোগ সড়কে জমির অন্যতম মালিক রাম প্রসাদ মন্ডল বলেন, আমাদের জমি নিয়ে কয়েকবার তদন্ত হয়েছে। কিন্তু ব্রিজের দুই-ধারে আমরা ১৫-১৬ জন জমি-মালিক এখনও কোনো ক্ষতিপূরণ পাইনি। কুলটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক উত্তম সরকার বলেন, আগে দুই-পারের মানুষ বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতেন। কিন্তু ব্রিজ তৈরির পর সেই সাঁকো ভেঙ্গে গেলে এলাকার অভিভাবকরা নিরুপায় হয়ে নিজেদের খরচেই ব্রিজে ওঠা-নামার জন্য বাঁশের সিঁড়ি তৈরি করে দিয়েছে।
গজেন্দ্রপুর ব্রিজ চালুর চেষ্টারত বিএনপি-নেতা মশিউর রহমান লিটন বলেন, সংযোগ সড়ক না থাকায় যানবাহন চলাচলের পরিবর্তে ওই ব্রিজের ওপর মানুষ এখন ধান সুকাচ্ছে। তাছাড়া পুরাতন সেতুটি যে কোনো সময় ভেঙ্গে পড়লে ২ ইউনিয়নের মানুষের আন্ত-যোগাযোগ থমকে পড়বে। শরাফপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোরঞ্জন দাস বলেন, ৩ বছর আগে শেষ হলেও ব্রিজটি চালু না হওয়ায় জনগনের চলাচল ও ব্যবসার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী দারুল হুদা বলেন, আমি গত ২ বছর ধরে অনেক চেষ্টা করছি। কিন্তু জমি অধিগ্রহনের বিষয়টি আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে। সমাধান না হলে রাস্তা করা যাচ্ছে না। ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার বলেন, কুলটি ও গজেন্দ্রপুর ব্রিজের বিষযটি সমাধানে আমি জোর চেষ্টা চালাচ্ছি।
খুলনা- ৫ সাংসদ আলি আসগর লবি এমপি বলেন, আমি বিদেশ থেকে ফিরেই ব্রিজ ২টি চালু করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেবো।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মেহেদী হাসান,মোবাইল-০১৭৪৫-০৫৪৯৯৮
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত