নিজস্ব প্রতিবেদক,
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের মেহেন্দি নগর গ্রামের নুরুল ইসলাম গাজীর বড় ছেলে শফিকুল ইসলাম শফির বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক পদ ব্যবহার করে ব্যাপক চাঁদাবাজি, জমি দখল ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। খুলনায় অধ্যয়নরত এই ছাত্রনেতা গত ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে পুঁজি করে রাতারাতি কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন বলে স্থানীয় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ই আগস্টের আগে এলাকায় শফির কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক ভূমিকা ছিল না। কোনো দলীয় কর্মকাণ্ডেও তাকে দেখা যায়নি। অথচ ৫ই আগস্টের পর নামধারী কিছু নেতার নাম ভাঙিয়ে তিনি ও তার কৈখালী ইউনিয়নের চাচাতো ভাইয়েরা মিলে এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার শুরু করেন।
অভিযোগে প্রকাশ, গত ৫ই আগস্ট শ্যামনগর থানা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর বর্বরোচিত হামলায় শফিকুল ইসলাম শফি সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন। আন্দোলন পরবর্তী সময়ে এই ঘটনা ও নিজের পদকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে তদবির বাণিজ্য শুরু করেন তিনি। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বর্তমানে শফি খুলনায় বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন, যার উৎস মূলত এই অবৈধ চাঁদাবাজির টাকা।
শুধু চাঁদাবাজিই নয়, মেহেন্দি নগর ও পরানপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল ও সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে শফি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এই বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ প্রকাশ করতে গেলে স্থানীয় সাংবাদিক মেহেদী হাসানকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন মামলা ও হামলার ভয় দেখিয়ে চরম হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। সাংবাদিককে পুলিশি হয়রানির ফাঁদে ফেলার অপচেষ্টাও চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী মহলের।
"৫ই আগস্টের পর থেকে শফির ভাগ্য বদলে গেছে। সে আন্দোলনের নাম বিক্রি করে আমাদের ওপর জুলুম চালাচ্ছে। আমরা এই জুলুমবাজের হাত থেকে বাঁচতে চাই এবং দ্রুত তার গ্রেপ্তার দাবি করছি।"
এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা এবং এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম এবং বিএনপির স্থানীয় নেতা গাজী শাহ আলমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাধারণ মানুষ আহ্বান জানিয়েছেন, এই তথাকথিত ছাত্রনেতাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। এর ফলে দল ও আন্দোলনের ভাবমূর্তি রক্ষা পাবে বলে তারা মনে করেন।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল অনতিবিলম্বে শফিকুল ইসলাম শফির বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।