মোঃ সোহেল রানা ( বরগুনা )
বরগুনার বেতাগী উপজেলার ৫ নং বুড়ামজুমদার ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. গোলাম রবের বিরুদ্ধে একটি দোকানের পজিশন (জমি) আত্মসাৎ, প্রতারণা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মো. আব্দুর রহিম মীর বেতাগী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী মো. আব্দুর রহিম মীর জানান, ২০০২ সালে কাজিরহাট বাজারের দক্ষিণ পাশে মহাসড়কসংলগ্ন একটি দোকানের পজিশন ক্রয়ের উদ্দেশ্যে তিনি মো. গোলাম রবের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি বায়না চুক্তি সম্পাদন করেন। ওই চুক্তি অনুযায়ী তিনি দোকানের পজিশনের জন্য অর্থ পরিশোধ করেন।
তার অভিযোগ, তৎকালীন সময়ে মো. গোলাম রব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘ সময়েও দোকানের পজিশনটি তার নামে রেজিস্ট্রি করে দেননি। যদিও একসময় তিনি ওই দোকানের দখলে ছিলেন, পরবর্তীতে পুরোনো কাঠের ঘরটি ভেঙে পড়ে গেলে নতুন করে দোকান নির্মাণ করতে গেলে গোলাম রব ও তার স্বজনরা বাধা দেন।
আব্দুর রহিম মীর আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বরং গোলাম রবের ভাইপোরা তাকে বিভিন্ন সময়ে লাঞ্ছিত করেছে এবং হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। নিরুপায় হয়ে তিনি গত ১৭ জুলাই ২০২৬ বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
তিনি বলেন, "আমার জীবনের সঞ্চিত অধিকাংশ অর্থ দিয়ে আমি এই দোকানের পজিশন কিনেছিলাম। কিন্তু আজও আমি আমার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। এখন আমাকে দোকান নির্মাণ করতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে সরকার নির্ধারিত ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে সম্পাদিত বায়না চুক্তির দ্বিতীয় সাক্ষী মো. দলিল উদ্দিন মেম্বার গণমাধ্যমকে জানান, তার উপস্থিতিতেই চুক্তিপত্র সম্পাদিত হয় এবং সকল সাক্ষী স্বাক্ষর করেন। তিনি দাবি করেন, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মো. গোলাম রব দোকানের পজিশনটি মো. আব্দুর রহিম মীরের নামে রেজিস্ট্রি করে দেননি। তিনি আরও জানান, একসময় দোকানটি আব্দুর রহিম মীরের দখলে ছিল। পরে দোকানটি ভেঙে গেলে পুনর্নির্মাণের সময় গোলাম রবের স্বজনরা বাধা সৃষ্টি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. গোলাম রবের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হারুন অর রশিদ হাওলাদার বলেন, "অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মেহেদী হাসান,মোবাইল-০১৭৪৫-০৫৪৯৯৮
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত