বিশেষ প্রতিনিধি
জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, ফসল নষ্ট, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের হুমকির মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। উপপরিদর্শক (এসআই) আমির ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইমরান হোসেনের এমন অপকর্ম ও প্রশাসনিক দাপটে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে এক ভুক্তভোগী পরিবারসহ সমগ্র এলাকাবাসী।
নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচারের আকুতি জানিয়ে খুলনার রেঞ্জ ডিআইজি এবং সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর মৌখিক আবেদন জানিয়েছেন চরম আতঙ্কে থাকা ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি—অবিলম্বে এই দুই বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তার অপকর্মের দ্রুত তদন্ত করে উপযুক্ত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী মৌজায় পৈতৃক সূত্রপ্রাপ্ত ৩৪ শতক জমি নিয়ে (এস.এ দাগ নং ২৩২, খতিয়ান ৮২৯) মো. হাশেম আলী বাদী হয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে বিবাদী পক্ষ ১৪৭ ধারায় পাল্টা মামলা করলে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, তদন্তের নামে এএসআই ইমরান ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাদী পক্ষের ক্ষেতের উঠতি ধান নষ্ট করেন।
সমস্যার সুরাহার জন্য হাশেম আলীর ভাইপো ও সাতক্ষীরা কোর্টের আইনজীবী সহকারী (মোহরী) হাসনাত হাসু শ্যামনগর থানায় যোগাযোগ করলে এসআই আমির ও এএসআই ইমরান ৭,০০০ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরবর্তীতে একটি বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে ৪,৫০০ টাকা প্রদান করা হয়, যার স্পষ্ট অডিও রেকর্ড ভুক্তভোগীদের কাছে রয়েছে। এরপর আদালত থেকে জারি করা ১৪৫ ধারার নোটিশ বাস্তবায়নের অনুরোধ জানালে উক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা ক্ষিপ্ত হয়ে হাসুকে মুঠোফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরবর্তীতে কাশীমাড়ী বাজারে প্রকাশ্যে ঘোষণা দেওয়া হয়, হাসুকে কোনো পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হবে এবং তাঁর মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ে রাখা হয়েছে।
পুলিশের এই হুমকিতে আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ ওহাব কবিরাজ। অন্যদিকে, হাসুর স্ত্রী বর্তমানে আসন্নপ্রসবা। একের পর এক হুমকির মুখে পরিবারটি গভীর মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এই দুই কর্মকর্তার দীর্ঘদিনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের চিত্র। ইতিপূর্বে একাধিক সংবাদমাধ্যমে এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের হাতে বিভিন্ন কল রেকর্ড পৌঁছায়। অভিযোগ রয়েছে, শ্যামনগর কৈখালী সীমান্ত এলাকায় মাদক কারবারিদের সাথে যোগসাজশ, মাসোহারা আদায় ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে চাঁদা দাবি করাই তাঁদের মূল কাজ। থানাপ্রধানের নাম ভাঙিয়ে এএসআই ইমরান মূলত 'ক্যাশিয়ার' হিসেবে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
এমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে পুরো এলাকা। চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে আকুতি জানিয়ে বলছেন, "আমরা সাধারণ মানুষ আজ চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। পুলিশের ভয়ভীতিতে আমরা আতঙ্কিত। ডিআইজি স্যার ও পুলিশ সুপার স্যারের কাছে আমাদের আবেদন—আমাদের বাঁচান, আমাদের নিরপেক্ষ ও সুস্থ বিচার দিন।"
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস মিললেও, অনতিবিলম্বে অভিযুক্ত এসআই আমির ও এএসআই ইমরান হোসেনকে প্রত্যাহার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মেহেদী হাসান,মোবাইল-০১৭৪৫-০৫৪৯৯৮
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত