সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
পেশাগত সততা, নিষ্ঠা ও জনগণের সেবার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী। অথচ কিছু অসাধু সদস্যের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে মাঝেমধ্যে পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত কনস্টেবল (বকশী) হুমায়ুন কবিরের একের পর এক অনিয়ম, আর্থিক প্রতারণা, নারী কেলেঙ্কারি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চাঞ্চল্যকর খবর সম্প্রতি উঠে এসেছে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। বস্তুনিষ্ঠ ও সত্য প্রকাশে আপসহীন জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম ‘দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত’ (ডিএসডি টিভি)-তে এই সংক্রান্ত বিস্তৃত তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরপরই সুশীল সমাজ ও পুলিশ প্রশাসনে চরম তোলপাড় শুরু হয়।
ডিএসডি টিভিতে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণসহ প্রতিবেদন প্রচারিত হওয়ার বিষয়টি সরাসরি দৃষ্টিগোচর হয় সাতক্ষীরা জেলার অত্যন্ত জনপ্রিয় পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলমের। সততা, মানবিকতা এবং অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আপসহীন অবস্থানের জন্য তিনি জেলাজুড়ে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত।
অপরাধী যত শক্তিশালী বা প্রভাবশালীই হোক না কেন, কোনো অন্যায়ের সাথে আপস না করার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে পুলিশ সুপার তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তাঁর সরাসরি নির্দেশে আশাশুনি থানার বকশী পদ থেকে সরিয়ে বিতর্কিত হুমায়ুন কবিরকে অতি সাধারণ কনস্টেবল (রেগুলার) হিসেবে কালিগঞ্জ থানায় বদলি করা হয়েছে। পুলিশ সুপারের এই দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপে জেলার সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং সর্বস্তরের মানুষ তাঁর এই সৎ ও জনবান্ধব সিদ্ধান্তের ভূয়সী প্রশংসা করছেন।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, গত ৫ই আগস্টের সরকার পতনের পর শ্যামনগর থানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সুযোগ নিয়ে দাপ্তরিক কাজের অজুহাতে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাকিতে বিপুল টাকার মালামাল নেন বকশী হুমায়ুন। পরবর্তীতে ‘আল মদিনা অ্যালুমিনিয়াম হাউজ’ ও ‘মেসার্স মৌসুমী কনস্ট্রাকশন’সহ একাধিক দোকানের বকেয়া টাকা শোধ না করে পাওনাদারদের নানাভাবে হয়রানি করেন তিনি। এছাড়া, কোনো দাপ্তরিক কাজে অংশ না নিয়েও ভুয়া টিএ/ডিএ (TA/DA) বিল তুলে সরকারি অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মেলে। তৎকালীন তালা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামানের তদন্তেও এই জালিয়াতি প্রমাণিত হয়।
হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীদের উত্ত্যক্ত করার ইতিহাস বেশ পুরনো। ২০১৯ সালে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ থানায় বকশী থাকাকালে এক নারী কনস্টেবলকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে ‘ক্লোজ’ করা হয় এবং বিভাগীয় মামলা রুজু হয়। পরবর্তীতে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানায় বদলি হলেও তাঁর আচার-আচরণ বদলায়নি। শ্যামনগরে একাধিক নারী কনস্টেবলকে যৌন হয়রানির অভিযোগে তাঁকে খেশরা ক্যাম্পে পাঠানো হয়। সর্বশেষ আশাশুনি থানায় কর্মরত থাকাকালে নারী কনস্টেবল লিমার সাথে অনৈতিক সম্পর্কের খবর ফাঁস হয় এবং সাজাপ্রাপ্ত ওই নারী কনস্টেবলকে অবৈধভাবে ডিউটি রোস্টারে ‘রেগুলার’ দেখানোর মাধ্যমে দাপ্তরিক জালিয়াতির আশ্রয় নেন তিনি।
নিজের অপরাধ ঢাকতে প্রশাসনিক ক্ষমতার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে এই দুর্নীতিবাজ কনস্টেবল-এর বিরুদ্ধে। শ্যামনগর থানায় থাকাকালে শাস্তিমূলক বদলি এড়াতে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপিকে দিয়ে তৎকালীন পুলিশ সুপারের কাছে তদ্বির করান তিনি, যা পুলিশ চাকরিবিধির চরম লঙ্ঘন।
সাতক্ষীরার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম প্রমাণ করেছেন—অপরাধী নিজের বাহিনীর লোক হলেও তাঁকে ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত (ডিএসডি টিভি) যেকোনো দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সবসময় আপসহীন থেকে সত্য প্রকাশে নিজের দায়বদ্ধতা পুনরায় প্রমাণ করেছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় সচেতন মহল দুর্নীতির খবর সাহসীভাবে তুলে ধরার জন্য ডিএসডি টিভি এবং দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ায় মানবিক পুলিশ সুপারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মেহেদী হাসান,মোবাইল-০১৭৪৫-০৫৪৯৯৮
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত