বিশেষ প্রতিনিধি-
যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার মো. কামরুজ্জামান। ফুটবল প্রতীক নিয়ে যশোর–৫ (মনিরামপুর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এই সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা ও পরিবর্তনের বার্তা। রাজনীতির চেনা মুখের বাইরে শিক্ষিত, ভদ্র ও যুক্তিনির্ভর এক বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে তাকে দেখছেন তরুণ, মধ্যবিত্ত ও সচেতন ভোটারদের বড় একটি অংশ।
আইন পেশার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে থাকার সুবাদে মনিরামপুরে ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান একটি পরিচিত নাম। মানবাধিকার, নাগরিক অধিকার, ভূমি বিরোধ ও প্রশাসনিক অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনি সহায়তা দিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। স্থানীয় রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকলেও তিনি কখনো জাতীয় রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ের ক্ষমতার অংশ ছিলেন না, যা তার ইমেজকে করেছে তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য।
আসন্ন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামার পর থেকে নাগরিকদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময়, গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে মনিরামপুরের নানামুখী সমস্যার কথা তুলে ধরছেন তিনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি মনিরামপুরকে বদলে দিতে চান। তার ভাষায়, ভবদহ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও দুর্দশা থেকে মুক্তি দেওয়া হবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। পাশাপাশি মনিরামপুর পৌরশহরের প্রধান সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স একটি ৫০ শয্যার সরকারি হাসপাতাল হলেও সেখানে চিকিৎসক ও জনবল সংকট প্রকট। বহুবার সরেজমিনে গিয়ে এর ভয়াবহ অবস্থা প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি। নির্বাচিত হলে এই হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করে পর্যাপ্ত ডাক্তার, নার্স ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি, যাতে মনিরামপুরবাসীকে আর যশোর শহরমুখী হতে না হয়।
শহরের অন্যতম সমস্যা যানজট নিয়েও রয়েছে তার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা। মনিরামপুরের প্রধান সড়ক অত্যন্ত সরু হওয়ায় প্রতিদিনই জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। এ বিষয়ে তিনি জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী মেইন রোড সম্প্রসারণ এবং একটি কার্যকর বাইপাস সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে যানজট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এছাড়াও মাদক, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানিয়ে ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান বলেন, মনিরামপুরকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। তরুণদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, নারীর নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই হবে তার মূল লক্ষ্য।
মনিরামপুরের অনেক ভোটার মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে চেনা রাজনৈতিক বৃত্তের বাইরে গিয়ে একজন শিক্ষিত ও পেশাদার মানুষকে সুযোগ দেওয়ার সময় এসেছে। ফুটবল প্রতীকে ভোট দিয়ে ব্যারিস্টার কামরুজ্জামানকে নির্বাচিত করলে মনিরামপুরের উন্নয়ন ও সেবার নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে এমন প্রত্যাশাই এখন শোনা যাচ্ছে উপজেলার হাটবাজার, চায়ের দোকান ও সামাজিক আড্ডায়।