নিজস্ব প্রতিবেদক,
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় ভিপি (অর্পিত সম্পত্তি) তালিকাভুক্ত বিতর্কিত জমির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ‘মব’ সৃষ্টির মাধ্যমে সাংবাদিকদের শারীরিক হেনস্তা ও মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা এবং পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের এই অপচেষ্টার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পাটকেলঘাটার টাওয়ার রোডে ১/১ খতিয়ানের একটি ভিপি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলাধীন ওই জমিতে সরকারি কোনো অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ ও সংস্কার কাজ চালানো হচ্ছে। জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী এক দোকানদার ১৮ লাখ টাকার বিনিময়ে ওই জমি ও ঘরটি ক্রয় করেছেন বলে দাবি করছেন, যার স্ট্যাম্প সম্পন্ন হয়েছে। তবে আইনি জটিলতা থাকা সত্ত্বেও সেখানে নির্মাণকাজ চলায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।
উক্ত ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে চৌগাছা গ্রামের সাংবাদিক মাসুদ হাসান মনি ও সাতক্ষীরার মোহাম্মদ রবিউল ইসলামকে কৌশলে ফোন করে ডেকে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে জনতা জড়ো করে (মব সৃষ্টি) তাদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে বিষয়টি টাকার বিনিময়ে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও পরবর্তীতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের পুনরায় আটক করে হেনস্তা ও পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।
এই ঘটনায় মোট পাঁচজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অভিযুক্ত সাংবাদিকরা হলেন:
গোলাম রব্বানী (দৈনিক সংবাদ সংযোগ)
আলমগীর হোসেন (প্রতিদিনের কথা)
খান আতাউর রহমান (দৈনিক বর্তমান কথা ও সাতক্ষীরার সকাল)
মাসুদ হাসান মনি (দৈনিক সোনালী কণ্ঠ)
মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম (সাতক্ষীরার সংবাদ)
ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের দাবি, ওই বিতর্কিত জমির দখলদারদের অবৈধ কর্মকাণ্ড আড়াল করতেই পরিকল্পিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ তুলে কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে, পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবের কথিত সভাপতি ও রূপালী বাংলা পত্রিকার নাম ব্যবহারকারী আব্দুল মমিন নামের এক ব্যক্তির ভূমিকা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ঘটনাটি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংবাদিক নেতারা এই ঘটনাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায় হিসেবে দেখছেন। তারা অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একইসাথে, বিতর্কিত ওই জমিতে অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধে তালা উপজেলা ভূমি অফিসের এসিল্যান্ডসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।