মোঃ মেহেদী হাসান, সম্পাদক ও প্রকাশক
সমাজে একটি প্রচলিত প্রবাদ আছে- "মিথ্যাবাদীর মুখে মধু বেশি, আর বাটপারের জনপ্রিয়তা বেশি।" বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে এই রূঢ় সত্যটি যেন বারবার সামনে আসছে। সস্তা জিনিসের যেমন খরিদ্দার বেশি হয়, তেমনি ব্যক্তিত্বহীন মানুষের বন্ধুর অভাব হয় না। কিন্তু এই স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন, তাদের ভাগ্যে জোটে একরাশ শত্রুতা।
সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদ শ্যামনগর উপজেলার সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় এমনই এক চ্যালেঞ্জিং পথ বেছে নিয়েছে স্থানীয় জনপ্রিয় পত্রিকা ‘দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত’।
একটি আদর্শ সংবাদপত্রের প্রধান দায়বদ্ধতা হলো সমাজের আয়না হওয়া। কিন্তু সেই আয়নায় যখন প্রভাবশালী বা অশুভ শক্তির কুৎসিত রূপ ধরা পড়ে, তখনই শুরু হয় সংঘাত। ‘দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত’ শুরু থেকেই চাটুকারিতার পরিবর্তে গঠনমূলক সমালোচনা ও আপসহীন সত্য প্রকাশকে প্রাধান্য দিয়ে আসছে।
প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর,শ্যামনগর উপজেলার প্রতিটি মানুষের ছোট-বড় বঞ্চনা ও অধিকার নিয়ে পত্রিকাটি নিয়মিত সোচ্চার।
সততার চ্যালেঞ্জ,বর্তমান সমাজে যেখানে সৎ মানুষের অভাব প্রকট, সেখানে পত্রিকাটি নৈতিকতার প্রশ্নে অটল থাকায় স্বার্থান্বেষী মহলের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছে।
ব্যক্তিত্ব বনাম জনপ্রিয়তা,তৈলমর্দন করলে সহজেই সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়া যায়, কিন্তু সত্য বলতে গেলে শত্রুর সংখ্যা বাড়ে। ‘সাতক্ষীরা দিগন্ত’ সংখ্যাতত্ত্বের চেয়ে সত্যের গুরুত্বকেই বড় করে দেখছে।
শ্যামনগর উপজেলার প্রান্তিক মানুষের অভিযোগ, ভূমিদস্যুতা কিংবা স্থানীয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে পত্রিকাটির সাহসী অবস্থান তাদের একমাত্র ভরসা। সাধারণ পাঠকদের মতে, যারা তেল মেরে কথা বলে, তাদের চারপাশে লোক সমাগম বেশি থাকে। কিন্তু বিপদের সময় বা অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে ‘সাতক্ষীরা দিগন্ত’ ছাড়া কাউকে পাশে পাওয়া যায় না।
স্থানীয় এক সমাজকর্মী জানান, "সাতক্ষীরা দিগন্ত সত্যের পক্ষে থাকে বলেই আজ তাদের শত্রুর অভাব নেই। কিন্তু এই শত্রুতা প্রমাণ করে তারা সঠিক পথে আছে।"
সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে পত্রিকাটিকে নানা সময় প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তবে পত্রিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, "ব্যক্তিত্বহীন মানুষের হাজারো বন্ধুর চেয়ে সত্যের পথে থেকে শত্রু অর্জন করাও অনেক বেশি সম্মানের। আমরা সংখ্যাতত্ত্বে বিশ্বাসী নই, আমরা ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকতে চাই।"
শত বাধা আর স্বার্থান্বেষী মহলের শত্রুতা ডিঙিয়ে ‘দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত’ শ্যামনগরের গণমানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে চিরকাল সত্যের মশাল জ্বালিয়ে রাখবে—এমনটাই প্রত্যাশা সুধীসমাজের।
"সত্যের পথ কঠিন, কিন্তু দিনশেষে জয় সত্যেরই হয়।"