বিশেষ প্রতিনিধিঃ
প্রতি বছরের ন্যায় জুন জুলাই আগস্ট সুন্দরবনে সব ধরনের টাকাপাস পারমিট বন্ধ থাকে। এমনকি পর্যটকদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। এই নিষিদ্ধ মৌসুমে সিপিজি ও দালালদের উক্ত সহযোগিতায় অসাধু বনকর্মকর্তারা মোটা অংকের পকেট মানিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত অভায়ারণ্য এলাকায় মাছ কাকড়া আহরণ অব্যাহত রেখেছে। পুরো চক্রটি চলছে বর্তমান পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনে সম্প্রীতি যোগদানকারী এস ও -এরফান হোসেন এর প্রত্যক্ষ মদদে। বন বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা সহ সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারি বন সংরক্ষণ এর সাথে রয়েছে তার সখ্যতা। বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনে ৮/১০ জন দালাল রয়েছে। তারা হচ্ছে শহিদুল মোল্যা, জালাল মোল্যা, হাসান, ইসমাইল সানা, হোসেন সরদার, মজিদ দালালের ছেলে, বেল্লাল ঢালি, কথিত শরিফ ডাক্তার সহ নাম না জানা আরো অনেকে। তথ্য অনুসন্ধানের জানা গেছে,জেলেদের পাশ পারমিট করার সময় সুন্দরবনের নিষিদ্ধ এলাকায় জেলেদের প্রবেশ করার জন্য প্রতিগোনে (১৫) দিনে নৌকাপ্রতি ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তাকে উৎকোচ দিতে হয়। আরো জানা গেছে, প্রতি গোনে (১৫) দিনে দোন দড়ি ৫০০ টাকা,আটল নৌকা প্রতি ১৫০০ টাকা, চরপাটা নৌকাপ্রতি ২ হাজার টাকা,রেনদি জাল নৌকা প্রতি ২৫০০ টাকা, চরপাটা নৌকাপ্রতি ২০০০ টাকা,গয়সা জাল/ফাস জাল নৌকাপ্রতি ২০০০ টাকা বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তাকে দিতে হয়। উক্ত টাকার ভাগ নিষিদ্ধ এলাকার বন টহল ফাড়ি, স্মার্ট পেট্রল টিম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ পেয়ে থাকেন। তবে জুন জুলাই ও আগস্ট এই তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রয়েছে। অথচ এমন বন্ধের সময়ও থেমে নেই সুন্দরবনে মাছ কাঁকড়া আহরণ। যে সমস্ত জেলেরা উৎকোচ না দিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করে তাদের ২/১ টি নৌকা আটক করে বন মামলা দিয়ে বন বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের বাহবা নেওয়ার চেষ্টা করেন ওই সব অসাধু কর্মকর্তারা। আবার আটককৃত নৌকায় যে সমস্ত মাছ কাকড়া থাকে তার সিংহভাগ বিক্রি করে দেন। সামান্য পরিবার নিলাম দেখিয়ে বা সুন্দরবনে অবমুক্ত করে থাকেন বলেও তথ্য মিলেছে। বনবিভাগের হাতে আটক হয়ে আদালত থেকে জামিনে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে জানান, দালালদের মাধ্যমে টাকা দিয়ে সুন্দরবনে গিয়ে এসিএফ এর হাতে আটক হই। এ সময় আমার নৌকায় কয়েক লাখ টাকার মাছ ছিল। আমাকে আদালতে চালানের পর নৌকায় সেই মাছের বেশির ভাগ বন বিভাগের কর্মকর্তারা অন্যত্র বিক্রি করে সামান্য কিছু মাছ নিলামে বিক্রি করে। জেলেরা শুধু মাছ কাকড়া আহরণ করেন না। সুন্দুরবনের মূল্যবান গাছ ও মায়াবি হরিন নিধন করছে। ওচিরে উহা বন্ধ না হলে সুন্দুরবন ধংষের পথে হাটছে। এ বিষয়ে বন পরিবেশ জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রীসহ বন বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগনের আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এ বিষয়ে বুড়ি- গোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা এরফান হোসেনের সাথে কথা হলে দার বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা তিনি অস্বীকার করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মেহেদী হাসান,মোবাইল-০১৭৪৫-০৫৪৯৯৮
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত