ছাবেদুল সরকার-পাবনা প্রতিনিধিঃ
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পথচলা, একাধিক সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং তৃণমূল পর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপির স্থানীয় নেতা বাবুল আক্তার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, অবকাঠামো, সামাজিক নিরাপত্তা ও দুর্নীতিমুক্ত সেবাপ্রদানকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি ইউনিয়নবাসীর জন্য একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।
জানা যায়, ২০০১ সাল থেকে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। নিয়মিত মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অর্থ ও আপ্যায়ন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষাজীবনে রাজশাহী সিটি কলেজে এইচএসসি অধ্যয়নকালে ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে অংশ নেন। পরে ধারাবাহিকভাবে কলেজ ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে ২০১০-১১ সালে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি, ২০১৭ সালে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আপ্যায়ন সম্পাদক, ২০২০ সালে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ২০২৫ সালে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন।
রাজনৈতিক জীবনে ২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পাঁচটি রাজনৈতিক মামলারও আসামি হন বলে তিনি দাবি করেন।
উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি জানান, ইউনিয়নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, ঝরে পড়া শিক্ষার্থী রোধ এবং মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তরুণদের জন্য খেলার মাঠ সংরক্ষণ, সংস্কার এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মাদক ও অপরাধমুক্ত ইউনিয়ন গঠনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। ছোটখাটো পারিবারিক ও স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তিতে নিরপেক্ষ গ্রাম আদালত কার্যকর করা হবে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর মানোন্নয়ন এবং চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ছাড়া বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা, টিসিবি কার্ডসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, ভিজিডি ও সরকারি ত্রাণ প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে বিতরণ, সহজে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, দালাল ও ঘুষমুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ গঠন এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে দ্রুত ও স্বল্প খরচে সরকারি অনলাইন সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন।
অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ইউনিয়নের প্রধান ও গ্রামীণ সড়ক পাকা করা, কাঁচা রাস্তা সংস্কার, নতুন ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সৌরবিদ্যুৎচালিত সড়কবাতি স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ঘোষিত উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এসব পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করবে জনগণের সমর্থন, সরকারি সহযোগিতা এবং কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মেহেদী হাসান,মোবাইল-০১৭৪৫-০৫৪৯৯৮
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত