নিজস্ব প্রতিনিধি,
রাজধানীর পল্লবী থানা এলাকা থেকে সাতক্ষীরার দুর্ধর্ষ ডাকাত মোঃ বাহার আলী তরফদার (৪৫) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর ও মাগুরা জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলার আসামি বলে জানা গেছে।
সোমবার (৭ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে পল্লবীর আলুব্দী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কালিগঞ্জ থানা-এর এসআই মোঃ সরোয়ার ও এএসআই মোঃ আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বাহার আলী তাদের নজরদারিতে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, চুরি, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্র সংক্রান্ত একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে র্যাব-৪-এর একটি মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় তিনি পলাতক ছিলেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার ঢাকায় অবস্থানের তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাহার আলী দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র পরিচালনা করে আসছিলেন। তার সঙ্গে কথিত ‘লেডি ডাকাত’ মাছুরা বেগম (৩২), পিং বককার, সাং চন্ডিপুর, থানা শ্যামনগর জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা সাতক্ষীরা শহরের জামায়াত অফিসের সামনে গলিতে রবিউল ইসলামের ভাড়া বাসা থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।
পুলিশ জানায়, বাহার আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অন্তত ৪০টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরার দেবহাটা থানায় হিন্দু বাড়িতে ডাকাতি, যশোরের শার্শা থানায় স্বর্ণের দোকান ও বাড়িতে ডাকাতি, মাগুরায় সড়কে গাছ ফেলে যানবাহনে ডাকাতি এবং খুলনায় লুটপাটের একাধিক মামলায় তিনি অভিযুক্ত।
এছাড়া সুন্দরবন এলাকায় ডাকাতি, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাহার আলীর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তার সহযোগীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ও জনপ্রতিনিধিরা বাহার বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের দ্রুত গ্রেফতার, তাদের কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ, লুণ্ঠিত মালামাল ও মাদক উদ্ধার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।