বিশেষ প্রতিনিধি:
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মচারী হাসান মাহমুদ সুমনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মাদক সেবন, ছদ্মবেশ ধারণ এবং সাধারণ মানুষের ওপর হামলার গুরুতর অভিযোগ উঠলেও অদৃশ্য শক্তিবলে তিনি স্বপদে বহাল রয়েছেন। নিজেকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানো এবং একাধিকবার এলাকাবাসীর হাতে আটক হওয়ার পরও তাঁর বিরুদ্ধে সদর দপ্তর থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরায় প্রকাশ্যে মাদক সেবন এবং এতে বাধা দেওয়ায় স্থানীয় অধিবাসীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে সুমনের বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাঁকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এটি তাঁর প্রথম অপরাধ নয়; এর আগেও ২০২০ সালে ডিবি পুলিশের ভুয়া পরিচয় দিয়ে সাতক্ষীরার এক মুদিদোকানিকে মারধর করার অভিযোগে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু বারবার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার পরও তিনি খুলনা অফিসে বহাল তবিয়তে কর্মরত আছেন।
শুধু আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগই নয়, কর্মস্থলেও সুমনের আচরণ নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দপ্তরটির একাধিক কর্মকর্তা জানান, সুমন নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত থাকেন এবং ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেন না। এমনকি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথেও দূরভিসন্ধিমূলক, অসংবেদনশীল ও অশালীন আচরণের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
মাঠপর্যায়ে এত অভিযোগ এবং স্থানীয়দের ক্ষোভ সত্ত্বেও সুমনের বিরুদ্ধে অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় থেকে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় চরম বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। প্রশ্ন উঠেছে, একজন সাধারণ কর্মচারীর ক্ষমতার উৎস বা খুঁটির জোর কোথায়? এর পেছনে অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কোনো মদদ রয়েছে কি না, তা নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "হাসান মাহমুদ সুমনের ধারাবাহিক বিশৃঙ্খলা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে মহাপরিচালক (ডিজি) মহোদয়ের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় নাই।"
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি মহাপরিচালক মহোদয় খুলনা পরিদর্শনে এলে সুমনের যাবতীয় অপকর্ম, অনিয়ম ও তথ্য-প্রমাণ তাঁর সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনার পর মহাপরিচালক তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
একটি দায়িত্বশীল সরকারি সংস্থার কর্মচারীর এ ধরনের লাগামহীন অপরাধ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকা নিয়ে নাগরিক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি, অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হোক এবং অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি রক্ষায় কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মেহেদী হাসান,মোবাইল-০১৭৪৫-০৫৪৯৯৮
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত