নজরুল ইসলাম খোকন টেকনাফ (কক্সবাজার)
কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিয়ার জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে ১,৪৪০ ক্যান বিয়ার উদ্ধার করা হলেও অভিযুক্ত মাদক কারবারি পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় টেকনাফ মডেল থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, টেকনাফ বিশেষ জোন সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২০ জুন) মাদকের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে ডিএনসির একটি আভিযানিক দল টেকনাফ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পানবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। টেকনাফ-কক্সবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থিত হাজী আব্দুল করিম মার্কেটের ‘এস এস মোবাইল মিডিয়া অ্যান্ড ডিজিটাল স্টুডিও’-এর পেছনের অংশকে কেন্দ্র করে এ অভিযান চালানো হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, দোকান মালিক সেবক পালের কাছ থেকে উপ-ভাড়ায় নেওয়া ওই অংশে আমির হামজা প্রকাশ মিলন (৩২) দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাদকদ্রব্য হিসেবে বিয়ার সংরক্ষণ ও বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।
অভিযানকালে দোকানটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেলে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে তালা ভেঙে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে দোকানের মেঝেতে রাখা ২০টি কার্টনের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ বিয়ার উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি কার্টনে ৭২টি করে ক্যান থাকায় মোট ১,৪৪০ ক্যান ‘Hunter 5%’ ব্র্যান্ডের বাংলাদেশি তৈরি বিয়ার জব্দ করা হয়।
তবে অভিযানের সময় অভিযুক্ত আমির হামজা ওরফে মিলন ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তার অবস্থান শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, টেকনাফ বিশেষ জোনের সহকারী পরিচালক কাজী দিদারুল আলম বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় টেকনাফ মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মাদকের অবৈধ উৎপাদন, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিক্রয়ের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহনশীলতা) নীতির আলোকে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। মাদকের ভয়াল থাবা থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।