বাঁকড়া (ঝিকরগাছা) প্রতিনিধি
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়ায় পৈত্রিক জমি ও গচ্ছিত অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়া প্রবাসী আবু বক্কারকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে তার আপন ভাই ও ভাইজি জামাইদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রবাসী ‘দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত’ প্রতিনিধির কাছে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তার ওপর হওয়া হামলার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন এবং নিজের ও পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সাক্ষাৎকার প্রদানকালে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে আবু বক্কার জানান, দীর্ঘ ১৫ বছর প্রবাসে হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে উপার্জিত অর্থের বড় একটি অংশ তিনি বড় ভাই আব্দুর রাজ্জাকের কাছে পাঠিয়েছিলেন। সম্প্রতি দেশে ফিরে সেই হিসাব ও পৈত্রিক জমির বণ্টন নিয়ে কথা বললে তার ওপর ক্ষিপ্ত হয় রাজ্জাক ও তার পরিবার।
তিনি আরও জানান, গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ বাঁকড়া আলিপুর লালটুর মিলের সামনে তাকে একা পেয়ে রাজ্জাকের দুই জামাতা মিলন ও রনি গতিরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই মিলন তার হাতে থাকা মোটরবাইকের হেলমেট দিয়ে আবু বক্কারের মাথায় সজোরে আঘাত করে। হামলায় গুরুতর আহত আবু বক্কার বর্তমানে চিকিৎসা নিলেও হামলাকারীদের অব্যাহত হুমকিতে বাড়িছাড়া হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
সাক্ষাৎকারে আবু বক্কার অভিযোগ করেন, হামলাকারী মিলন ও রনি স্থানীয়ভাবে সাবেক স্বৈরাচারী সরকারের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। তারা এই পারিবারিক ও জমি সংক্রান্ত বিরোধকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে বাঁকড়া ১নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতাকর্মীদের জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। মূলত নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে এবং এলাকায় সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির লক্ষ্যেই তারা ফেসবুকে বিএনপি নেতাদের নামে মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছে।
হামলার পর থেকে আবু বক্কার ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা বর্তমানে নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। স্থানীয় এলাকাবাসী এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং অবিলম্বে এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন।
ভুক্তভোগী আবু বক্কার প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানিয়ে বলেন, "আমি দেশের একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা। দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষ করে দেশে এসে যদি নিজ পরিবারের সন্ত্রাসী সদস্যদের হাতে রক্তাক্ত হতে হয় এবং তারা যদি রাজনৈতিক তকমা ব্যবহার করে পার পেয়ে যায়, তবে আমার মতো সাধারণ মানুষের যাওয়ার আর জায়গা থাকবে না।"
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস চেয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন এলাকাবাসী।