নিজস্ব প্রতিনিধি।
সাতক্ষীরায় ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতি এবং পারিবারিক সম্পর্কের পবিত্রতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আপন শাশুড়িকে বিয়ে করার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। আপন জামাই ও শাশুড়ির এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের ইন্দ্রনগর গ্রামের মোসলেম উদ্দিন গাজীর ছেলে টাইলস রাজমিস্ত্রি রবিউল পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন শ্যামনগর উপজেলার বাদঘাটা গ্রামের জাকির হোসেনের বড় মেয়েকে। তাদের দাম্পত্য জীবনে একটি সন্তানও রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, বিয়ের পর থেকেই রবিউল তার শাশুড়ি নাজমুন নাহার (পিতা কামরুল গাজী, গ্রাম দেওয়াল সংকরকাটি, কাশিমাড়ী)-এর সাথে পরকীয়া সম্পর্কের জালে জড়িয়ে পড়ে। গত কয়েকদিন আগে শাশুড়ি নাজমুন নাহার তার আপন জামাই রবিউলকে ফুসলিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান এবং পরবর্তীতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী তরুণী (রবিউলের প্রথম স্ত্রী) তার মায়ের এই অনৈতিক আচরণের প্রতিবাদ করলে মা নাজমুন নাহার সাফ জানিয়ে দেন, "আমি আমার পথ বেছে নিয়েছি, তুই তোর পথ দেখে নে।" নিজের জন্মদাত্রী মা এবং স্বামীর এমন বিশ্বাসঘাতকতায় কোলের সন্তান নিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন ওই নারী।
অভিযুক্ত জামাতা রবিউল (পিতা মোসলেম উদ্দিন গাজী) ইন্দ্রনগর, নলতা, কালীগঞ্জ।
অভিযুক্ত শাশুড়ি নাজমুন নাহার (পিতা কামরুল গাজী) দেওয়াল সংকরকাটি, কাশিমাড়ী, শ্যামনগর।
ভুক্তভোগী শ্বশুর জাকির হোসেন (পিতা অজেদ আলী গাজী) বাদঘাটা, নকিপুর, শ্যামনগর।
আইনবিদদের মতে, মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী আপন শাশুড়িকে বিয়ে করা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনরা তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন। এলাকাবাসীর দাবি, সমাজকে কলুষমুক্ত করতে এবং পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখতে এই দুই অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি।
দেশের কোথাও এই পলাতক যুগলকে দেখা গেলে নিকটস্থ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।