নিজস্ব প্রতিবেদক, কালিয়াকৈর (গাজীপুর):
চৈত্র মাসের তীব্র দাবদাহের চেয়েও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে সুদের টাকার ‘অগ্নিগরম’—এমন অভিযোগ উঠেছে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায়। স্থানীয়দের দাবি, কথিত সুদ ব্যবসায়ী লাভলু হোসেনের অত্যাচারে একের পর এক পরিবার জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।
ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর হোসেন, যিনি অভিযুক্তের আপন চাচাতো ভাই, অভিযোগ করে বলেন,
“আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও আমি তাদের অত্যাচার থেকে রেহাই পাইনি। অল্প কিছু টাকা নিয়েছিলাম, কিন্তু সুদের চাপে আমাকে আড়াই শতাংশ জমি লিখে দিতে বাধ্য করা হয়। পরবর্তীতে দেখি, আমার মোট ৯ শতাংশ জমিই তারা দখল করে নিয়েছে। আমি জমিতে কাজ করতে গেলে তারা আমাকে মারধর করে।”
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে তিনি থানায় অভিযোগ দিলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মামলা নিতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে তিনি আদালতে মামলা করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
“আমি এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব,”—যোগ করেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে ভিন্ন রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানি করছেন বলেও দাবি করেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন,
“আমি ১৭ লাখ টাকা নিয়েছিলাম, কিন্তু সুদসহ প্রায় এক কোটি টাকা পরিশোধ করেছি। তারপরও আমি রেহাই পাইনি। বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়ে চলে আসতে হয়েছে।”
আরেকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন,
“নিজের জমিতে বাউন্ডারি দিতে গেলেও তারা বাধা দেয়। বড় রাজনৈতিক নেতাদের নাম ব্যবহার করে ভয় দেখায়। থানায় অভিযোগ করেছি, পুলিশ ডেকেছে—কিন্তু তারা হাজিরই হয় না।”
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম বলেন,
“অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। দুই পক্ষকে নিয়ে বসার জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল, কিন্তু অভিযুক্ত উপস্থিত হয়নি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত লাভলু হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, তার পক্ষ থেকে সংবাদকর্মীকে হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এক সংবাদকর্মী কালিয়াকৈর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় একটি শক্তিশালী চক্র সুদের ফাঁদে ফেলে জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রভাব খাটানোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে আরও অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রমাণিত হলে তা অবৈধ সুদের ব্যবসা, প্রতারণা, জোরপূর্বক সম্পত্তি দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো একাধিক অপরাধের আওতায় পড়তে পারে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—
“সুদের টাকার আগুনে আর কত পরিবার পুড়লে নড়বে প্রশাসন?