আবুজার গাজী, খুলনা বিভাগীয় প্রধান।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় খোলপেটুয়া নদীর চর দখল ও ভরাটকে কেন্দ্র করে চলছে এক অঘোষিত প্রতিযোগিতা। স্থানীয় প্রশাসনের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উপজেলার ১১ নং পদ্মপুকুর ইউনিয়নের গড়কুমারপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যে নদীর চর দখল ও ভরাট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে একাধিক প্রভাবশালী মহল।
জানা গেছে, ভূমি অফিসের নাকের ডগায় বসেই নদীর চরে অবৈধ দখল, ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণের মতো কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও তা কার্যত অগ্রাহ্য করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই দখল প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছেন ব্যবসায়ী নুরুল আমিন সানা ও ইকবালুর রহমানসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, নুরুল আমিন সানা পূর্ব থেকেই নদীর জায়গা দখল করে সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। বর্তমানে তিনি আবার নতুন করে নদীর আরও অংশ দখল করে ভরাট কাজ শুরু করেছেন।
এদিকে, গড়কুমারপুর বাজার সংলগ্ন খোলপেটুয়া নদীর তীরে অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও পিছিয়ে নেই। কে আগে দখল করে স্থাপনা গড়ে তুলতে পারেন—এ নিয়ে চলছে নীরব প্রতিযোগিতা। কেউ নদীর বাঁধে, আবার কেউ নদীর জেগে ওঠা চরে গড়ে তুলছেন দোকানপাট ও পাকা স্থাপনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে চললেও সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস ও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। ফলে দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছে, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে খোলপেটুয়া নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। তাই নদী রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।