শাহিনুর ইসলাম: বিশেষ প্রতিনিধিঃ
‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে খুলনায় পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। দিবসটি উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।
সকালে শিববাড়ি জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য ও জুলাইযোদ্ধারা।
এ সময় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ও মহানগর ইউনিট,কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু,খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুন, রেঞ্জ ডিআইজি মো: মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ কমিশনার মো: সাজ্জাদুর রহমান, কেডিএ চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম, ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদ, খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক ভিপি আসাদুজ্জামান মুরাদ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধ নিবেদনের পর স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি এবং নগরীর বসুপাড়া কবরস্থানে জুলাই শহিদ শেখ সাকিব রায়হানের কবর জিয়ারত করা হয়।
খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে জুলাই শহিদ পরিবার, আহত এবং জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, বৈষম্যহীন, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধারা ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের মাধ্যমে দেশকে গণতন্ত্র ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে নেওয়ার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। যুবসমাজ জাতি গঠনের অন্যতম চালিকাশক্তি। দায়িত্ব পালনে গাফিলতি বা কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। এছাড়া পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, ওয়াসার চেয়ারম্যান, শহিদ শেখ মোঃ সাকিব রায়হানের পিতা শেখ আজিজুর রহমান,মাতা নূরনাহার, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও নিহত পরিবারের সদস্যগণ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।শিববাড়ি মোড়, শহিদ হাদিস পার্ক, ময়লাপোতা মোড়, জোড়াগেট, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গল্লামারী, রূপসা মোড়, নতুন রাস্তা এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মিনিপোলগুলোতে জুলাই আন্দোলনের ওপর বস্তুনিষ্ঠ ও নৈর্ব্যত্তিক দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী করা হয়।
বাদ যোহর মসজিদসমূহে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে শহিদদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।
বিকালে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া শহিদ হাদিস পার্ক ও শিববাড়ি মোড়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক সরবরাহকৃত চলচ্চিত্র বা প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
দিনব্যাপী জেলার সরকারি জাদুঘরসমূহ জনসাধারণের জন্য এবং বিনোদনমূলক স্থান শিশুদের জন্য বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখা হয়। সরকারি হাসপাতাল, জেলখানা ও শিশু পরিবারগুলোতে বিশেষ প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। পুরো শহর জাতীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন, গ্রাফিতি ও আলোকসজ্জায় রঙিন করে তোলা হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মেহেদী হাসান,মোবাইল-০১৭৪৫-০৫৪৯৯৮
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত