মোস্তাকিম বিল্লাহ বাপ্পী, গাবুরা প্রতিনিধি
“আজকে আমার কষ্ট হলেও কাল আমি ঠিক হয়ে স্কুলে যাব তো, বাবা?”
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) নিস্তব্ধ বিছানায় শুয়ে যখন ১০ বছরের নিষ্পাপ শিশু সালমান তার বাবার দিকে তাকিয়ে এই কাতর আকুতি জানায়, তখন কেঁপে ওঠে আশপাশের সবার বুক। উত্তর দেওয়ার মতো কোনো ভাষা খুঁজে পান না তার অসহায় বাবা সালাউদ্দিন ইউসুফী। নোনা জলে ভারী হয়ে আসে চোখের কোণ, বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে যায় কেবল এক গভীর হাহাকারে।
শিশুটির বাড়ি উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ৯ নম্বর গাবুরা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ‘গাইন বাড়ি’তে। সুন্দরবন সংলগ্ন প্রত্যন্ত এই উপকূলীয় জনপদের এক অতি সাধারণ ও অসচ্ছল পরিবারের সন্তান সালমান। জলবায়ুর আঘাত আর চরম বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে চলা ওই পরিবারের ছোট্ট শিশুটির জীবনে আজ নেমে এসেছে ঘোর অমাবস্যা।
যে বয়সে সহপাঠীদের সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার কথা, বিকেলে গাবুরার খোলা মাঠে দৌড়াদৌড়ি আর খেলাধুলায় মেতে থাকার কথা—সেই বয়সে ছোট্ট সালমান আজ ধুঁকছে ঢাকা মেডিকেলের চার দেয়ালের বন্দী জীবনে। নিয়তির এক নির্দয় পরিহাসে থমকে গেছে তার দুরন্ত শৈশব।
ঢামেকে চিকিৎসাধীন এই কোমলমতি শিশুটিকে নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন তার স্বজনেরা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হলে সালমানকে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু দিন দিন তার এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের খরচ চালানো পরিবারটির পক্ষে একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সালমানের বাবা সালাউদ্দিন ইউসুফী ছেলের জীবন বাঁচাতে নিজের সাধ্যের শেষবিন্দু দিয়ে চেষ্টা করেছেন। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ধার-দেনা করে এতদিন চিকিৎসা চালিয়ে আসলেও উপকূলীয় প্রত্যন্ত এলাকার পরিবারটির এখন আর কোনো পথ অবশিষ্ট নেই। অর্থাভাবে থমকে যেতে বসেছে সালমানের প্রতিটি চিকিৎসা পদক্ষেপ। চোখের সামনে নিজের আদরের সন্তানকে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখেও শুধু টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারার যন্ত্রণায় দিশেহারা বাবা-মা।
একটি ফুটফুটে শিশুর রঙিন স্বপ্ন আর তাজা জীবন বাঁচিয়ে রাখতে সালমানের পরিবার আজ দেশের সহৃদয়, দানশীল ও মানবিক মানুষের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছে। আপনার সামান্য ভালোবাসা, একবিন্দু সহানুভূতি এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্যই পারে এই ফুটফুটে জীবনের আলো জ্বালিয়ে রাখতে। আমাদের সামান্যতম সহযোগিতায় সালমান আবার সুস্থ হয়ে হাসিমুখে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে তার নিজ ভিটায় ফিরে যেতে পারে, ফিরে যেতে পারে স্কুলে।
“মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য”— আসুন, একটি নিষ্পাপ জীবন বাঁচাতে আমরা সবাই নিজ নিজ সাধ্যমতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিই।
সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা ও যোগাযোগ
রোগীর নাম- সালমান (১০ বছর)
পিতার নাম- সালাউদ্দিন ইউসুফী
স্থায়ী ঠিকানা- গাইন বাড়ি, ৯ নং গাবুরা ইউনিয়ন, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা।
বর্তমান অবস্থান- ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক), ঢাকা।
সাহায্য পাঠানোর মাধ্যম (বিকাশ - পার্সোনাল)-
01910-846342
আপনার পক্ষে যদি এই মুহূর্তে আর্থিক সহায়তা দেওয়া সম্ভব না-ও হয়, তবে সংবাদটি সর্বোচ্চ শেয়ার করে এমন কোনো হৃদয়বান বা বিত্তবান মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সাহায্য করুন, যিনি শিশুটির চিকিৎসায় এগিয়ে আসতে পারেন। আপনার একটু মানবিক সচেতনতাই পারে একটি প্রাণ বাঁচাতে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মেহেদী হাসান,মোবাইল-০১৭৪৫-০৫৪৯৯৮
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত