নিজস্ব প্রতিবেদক,
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে এক সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীর ওপর সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের ধারাবাহিক হুমকি, চাঁদা দাবি, বাড়ি ও অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের চেষ্টা এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এস. এম. নাসির উদ্দিন (৩২) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এস. এম. নাসির উদ্দিন, পিতা: এস. এম. বাসারাতুল্লাহ, গ্রাম: দুদলী, থানা: কালিগঞ্জ, জেলা: সাতক্ষীরা। তিনি কালিগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটের সভাপতি এবং জাতীয় দৈনিক “ভোরের পাতা”সহ একাধিক পত্রিকার কালিগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার অফিস নাজিমগঞ্জ বাজারে অবস্থিত। পাশাপাশি তিনি ভোমরা স্থলবন্দর সংলগ্ন এলাকায় “মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ” নামে একটি আমদানি-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং পানিয়াই এলাকায় দুটি মৎস্য প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, ২০১৬ সাল থেকে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তবে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী, মাদক ব্যবসায়ী, চোরাচালানকারী, চোর, ডাকাত ও মোটরসাইকেল চোরচক্রসহ বিভিন্ন অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনকে প্রকাশ্যে সহযোগিতা করে আসছেন। এ কারণে এসব চক্রের সদস্যরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং তাকে ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি, মারধর, মিথ্যা মামলা, বাড়ি ও অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের চেষ্টা, ব্ল্যাকমেইলিংসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টার দিকে অভিযুক্তরা তার বাড়ির পাশে এসে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেয় এবং বাড়িঘর ভাঙচুর ও মৎস্য প্রকল্পে লুটপাটের ভয় দেখায়। পরবর্তীতে তারা নাজিমগঞ্জস্থ তার পত্রিকা অফিসেও ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়।
এছাড়া ছোট বাবু, শোকর, আলমগীর, বক্কার, আজিত, সিরাজ, মাছুরা প্রমুখ একই চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ৫-৬টি মোটরসাইকেলযোগে অস্ত্রধারীরা তার বাসায় এসে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তারা বলে, “আমাদের সিরাজুল ভাই পাঠাইছে, ১৫ দিনের মধ্যে মোবাইলে যোগাযোগ করে টাকা না দিলে স্বপরিবারে খুন কইরা ফেলব।”
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর বিকেলে অভিযুক্তরা পুনরায় তার বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে তার মাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শ্যামনগরের তথাকথিত ‘লেডি ডাকাত’ মোছাঃ মাছুরা বেগমকে ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। এতে ব্যর্থ হয়ে ২০১৮ সালে তার ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে কালিগঞ্জ থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়, যা পরবর্তীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক খারিজ করা হয়।
এদিকে, সম্প্রতি তার মামা বিকাশ এজেন্ট মোঃ মুখলেসুর রহমান গত ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকায় সশস্ত্র ডাকাতদের হামলার শিকার হন। দুর্বৃত্তরা তাকে গুরুতর আহত করে নগদ অর্থ ছিনতাই করে নেয়। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলে ইয়ার আলীর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ‘লেডি ডাকাত’ মাছুরা বেগম ও তার সহযোগীরা একটি ভিডিও তৈরি করে তা প্রচার করছে, যার উদ্দেশ্য জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মানহানি করা এবং নিজেদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়া। এতে এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, চুরি ও ডাকাতির আতঙ্ক বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভুক্তভোগী জানান, বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। উল্লেখ্য, ২০০০ সালে তার ছোট চাচা এস. এম. সাইফুল ইসলাম সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হন।
এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।