নিজস্ব প্রতিবেদক,
সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নে পরকীয়া ও অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় এক ব্যক্তিকে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হাত-পা ও চোখ বেঁধে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে একদল সন্ত্রাসী। ২০২৪ সালের ১০ জুন বিকেলে ঘটে যাওয়া সেই ভয়ংকর হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী কাজী আব্দুস সালাম দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে প্রাণে বেঁচে ফিরলেও, ঘটনার প্রায় দুই বছর হতে চললেও এখনো অধরা মূল অপরাধীরা।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া গ্রামের কাজী বদর উদ্দীনের পুত্র কাজী আব্দুস সালামের স্ত্রী মোনজুয়ারা খাতুন পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীকলা গ্রামের মৃত বাকী সরদারের পুত্র রায়হানের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি হাতেনাতে ধরা পড়ার পর আব্দুস সালাম সাতক্ষীরা আদালতে স্ত্রী ও তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
মামলা করার পর থেকেই আসামী পক্ষ আব্দুস সালামকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। এতে কাজ না হওয়ায় গত ১০ জুন ২০২৪ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৫:৩০ মিনিটে মোনজুয়ারা ও রায়হানের ভাড়াটিয়া ৪০-৫০ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী আব্দুস সালামের বসতবাড়িতে চড়াও হয়। তারা ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্র জানায়, সন্ত্রাসীরা আব্দুস সালামের চোখ ও মুখ বেঁধে ফেলে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে তার শরীর ক্ষতবিক্ষত করে দেওয়া হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি ফিরে এলেও শারীরিক ও মানসিকভাবে এখনো সেই ট্রমার মধ্যে রয়েছেন।
ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হলেও মামলার মূল আসামীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন কাজী আব্দুস সালাম ও তার পরিবার। ভুক্তভোগী বলেন, "আমি কেবল আমার সম্মান রক্ষা করতে চেয়েছিলাম। তারা আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে। আমি প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানাই, এই জেনাকারী ও হামলাকারীদের যেন দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়।"
এলাকাবাসীর দাবি, অপরাধীরা প্রভাবশালী হওয়ায় পার পেয়ে যাচ্ছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।