সাইফুল ইসলাম, গাবুরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় গাবুরা ইউনিয়নে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তীব্রতায় বেশ কয়েকটি পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ও আংশিক বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জরুরি মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের জন্য সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলাম এবং শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে হঠাৎ করেই গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা এলাকায় তীব্র বেগে কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে। মাত্র কয়েক মিনিটের এই ঝড়ের তাণ্ডবে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঝড়ের উপড়ানোর শক্তিতে ঘরবাড়ির চাল উড়ে যায় এবং গাছপালা ভেঙে পড়ে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এলাকার নিম্নআয়ের চারজন বাসিন্দা— হাবিবর, বাটুল, মোকছেদ গাজী এবং আশরাফুল ইসলাম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝড়ের তীব্রতায় আশরাফুল ইসলামের বসতঘরের ছয় থেকে সাতটি টিনের চালা উড়ে গিয়ে দূরে ছিটকে পড়েছে এবং পুরো ঘরটি ভেঙে পড়েছে। একই এলাকার মোকছেদ গাজীর দ্বি-স্তরের (দুই পাট) ঘরের এক পাটের চাল সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রায় একই অবস্থা হাবিবর ও বাটুলের বসতঘরেরও।
ক্ষতিগ্রস্ত আশরাফুল ইসলাম ক্ষোভ ও আর্তি প্রকাশ করে বলেন, “ঝড় শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই চোখের সামনে ঘরের টিন উড়ে গেল। এখন পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে খুব কষ্টে আছি। নিজের টাকায় এই ঘর আবার মেরামত করার মতো কোনো সামর্থ্য আমার নেই।”
আরেক ভুক্তভোগী মোকছেদ গাজী বলেন, “ঝড়ে ঘরের চাল ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে। সামনে যেকোনো সময় আবার বৃষ্টি নামলে পরিবার নিয়ে দাঁড়ানোর মতো জায়গা থাকবে না। আমাদের দ্রুত সরকারি সাহায্য দরকার।”
উপকূলীয় এই অঞ্চলের দুর্যোগ নতুন কিছু না হলেও, গাবুরার এই দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর পক্ষে আকস্মিক এই ক্ষতি সামাল দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। ধসে পড়া ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণে বিপুল অর্থের প্রয়োজন, যা এই মুহূর্তে তাদের পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল এবং এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে বিত্তবান ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে টিন ও নগদ অর্থ বরাদ্দের দাবি জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সাতক্ষীরা-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয়ের সদয় দৃষ্টি ও তাৎক্ষণিক মানবিক হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করেছেন, যাতে দ্রুততম সময়ে সরকারি পুনর্বাসন সহায়তার মাধ্যমে তারা মাথা গোঁজার ঠাঁই ফিরে পান।