মোস্তাবিন সিয়াম
সাভারের আশুলিয়ায় সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক সিয়ামকে হাত-পা ভেঙে দেওয়া ও প্রাণে মেরে ফেলার প্রকাশ্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাচ্চু মন্ডল নামের এক মার্কেট মালিকের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ঘটনা ধামাচাপা দিতে ‘নিউজ ডিলিট’ করার জন্য ২০ হাজার টাকা দাবির মনগড়া ও বানোয়াট গল্প সাজিয়ে উল্টো সাংবাদিককে ফাঁসানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি সুসংগঠিত থানা-কেন্দ্রিক দালাল চক্র।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আশুলিয়া থানার সামনেই গড়ে উঠেছে বাচ্চু মন্ডলের মালিকানাধীন মার্কেট। এই মার্কেটের বিভিন্ন দোকান ও রুম ভাড়া নিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন আইনজীবীরা তাদের ল-চেম্বার (আইনজীবী চেম্বার) পরিচালনা করছেন। বাচ্চু মন্ডল নিজে কোনো ল-চেম্বারের মালিক না হলেও, তার মার্কেটে থাকা এই ল-চেম্বারগুলোর আইনি পরিবেশ ও আইনজীবীদের নাম ভাঙিয়ে নেপথ্যে থেকে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে।
এই সিন্ডিকেটের প্রধান দুই খলিফা হলেন বাচ্চু মন্ডলের বোনজামাই সিদ্দিক এবং বিল্লাল। এই দুজন সার্বক্ষণিক আশুলিয়া থানার প্রধান গেটে ওৎ পেতে থাকেন। থানায় কোনো সাধারণ মানুষ সেবা বা আইনি প্রয়োজনে আসলেই তারা নিজেদের ‘অ্যাডভোকেট শামীমা নাজনীনের অ্যাসিস্ট্যান্ট’ হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর বাচ্চু মন্ডলের মার্কেট ও সেখানকার ল-চেম্বারগুলোর প্রভাব দেখিয়ে বড় বড় মামলা বা তদবিরের নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি ও ব্ল্যাকমেইল করে আসছেন।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট শামীমা নাজনীনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিদ্দিক ও বিল্লালের ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট’ পরিচয়ের দাবিটি সরাসরি নাকচ করে দেন। অ্যাডভোকেট শামীমা নাজনীন জানান, "বিল্লাল মূলত আমাদের রাইটার্স (নবিশ/লেখক)।" আইনজীবীর এমন বক্তব্যের অডিও কল রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে সংরক্ষিত রয়েছে।
আইনজীবীর ভুয়া অ্যাসিস্ট্যান্ট পরিচয় এবং থানার গেটে সাধারণ মানুষকে ‘জ্বালিয়ে খাওয়ার’ এই অপকর্মের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের উদ্যোগ নিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মার্কেটের মালিক বাচ্চু মন্ডল। তিনি সরাসরি সাংবাদিক সিয়ামকে হাত-পা ভেঙে দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন। একই সাথে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, "নিউজ ডিলিট কর, না হলে আমরা সবাই মিলে তোকে ফাঁসিয়ে দিবো।"
এদিকে ঘটনা ভিন্ন খাতে মোড় নিতে চক্রের অন্যতম সদস্য বিল্লাল উল্টো অপপ্রচার শুরু করেছেন যে, সাংবাদিক নাকি নিউজ কাটার জন্য ২০ হাজার টাকা দাবি করেছেন—যা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। মূলত নিজেদের জালিয়াতি, দালালির সাম্রাজ্য ও হুমকি প্রদানের অপরাধ আড়াল করতেই সাংবাদিকের ওপর এই মিথ্যা অপবাদ চাপানোর অপচেষ্টা চলছে।
সার্বিক বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরুকুলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
"আমি এই থানায় নতুন এসেছি, তাই এ বিষয়ে তেমন কিছু জানি না। আপনি যেহেতু পুরো বিষয়টি বললেন, আমি খোঁজ নিচ্ছি।"
থানার গেটে ও সামনের মার্কেটের ল-চেম্বারগুলোর নাম ভাঙিয়ে প্রকাশ্যে দালালি, সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন গণমাধ্যমকর্মীকে প্রকাশ্য হুমকি ও মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার এই ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। দ্রুত এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মেহেদী হাসান,মোবাইল-০১৭৪৫-০৫৪৯৯৮
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত