বিশেষ প্রতিনিধি
যশোরের অভয়নগরে পুষ্টি উন্নয়ন, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, পরিবেশবান্ধব চাষাবাদে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ প্রকল্পের আওতায় এক কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে অভয়নগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দীন দিপু।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ লাভলী খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশীষ কুমার বসু, যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মো. আবুল হাসান, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) সমরেন বিশ্বাস, পার্টনার প্রকল্পের যশোর অঞ্চলের এসএমও শেখ সাজ্জাদ হোসেন এবং যশোর অঞ্চলের তেলজাতীয় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের মনিটরিং কর্মকর্তা মো. হাসান আলী।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রজব আলী, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল ইসলাম, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা লিপটন সরদার, যশোর জেলা ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহ জালাল হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং কৃষক-কৃষাণীরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হাফিজা খানম।
স্বাগত বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ লাভলী খাতুন বলেন, পার্টনার প্রকল্পের মূল লক্ষ্য নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি করে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা। পাশাপাশি কৃষিকে খোরপোষভিত্তিক চাষাবাদ থেকে বাণিজ্যিক পর্যায়ে উন্নীত করা, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলাও এ প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।
কংগ্রেসে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, এনজিও, জনপ্রতিনিধি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, পিএফএস ও নন-পিএফএস কৃষক-কৃষাণীসহ মোট ১১০ জন অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ছয়টি স্টলে উন্নত জাতের ফসল, কৃষিপণ্য ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
আয়োজকরা জানান, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও পুষ্টিসমৃদ্ধ কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনই ‘পার্টনার’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এই ধরনের উদ্যোগ কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।